US-Iran Conflict

দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, আপাতত ইরানে আর হামলা নয়! কার মধ্যস্থতায় শান্তি ফিরছে? কী জানাল তেহরান

৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (আমেরিকার সময়) মধ্যে যদি ইরান হরমুজ় প্রণালী খুলে না-দেয় তবে তেহরানকে নরকে পাঠানো হবে। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:০৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’

Advertisement

৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (আমেরিকার সময় অনুযায়ী। ভারতীয় সময়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা) মধ্যে যদি ইরান হরমুজ় প্রণালী খুলে না-দেয় তবে তেহরানকে নরকে পাঠানো হবে। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন তিনি। এ-ও জানান, এই যুদ্ধবিরতি দু’তরফেই! অর্থাৎ, আপাতত ইরান বা আমেরিকা— দু’দেশই সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে। একই সঙ্গে জানালেন, কার মধ্যস্থতায় সম্ভব হল এই যুদ্ধবিরতি।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে প্রথমেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, শাহবাজ় এবং মুনিরের দেওয়া প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মতে, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছোনোর জন্য এই সময়সীমা ব্যবহার করা হবে। কেন তিনি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ট্রাম্প তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই সমস্ত সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা অতিক্রমও করেছি। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’

ট্রাম্প আরও জানান, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। তবে তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, হরমুজ় প্রণালী অবিলম্বে, সম্পূর্ণ এবং নিরাপদে খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ‘রাজি’ হয়েছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ একই সঙ্গে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শাহবাজ় এবং মুনিরকেও। ট্রাম্পের শর্ত মেনে হরমুজ় কি খুলে দেবে ইরান? আরাঘাচি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা যথাযথ ভাবে বিবেচনা করে তবেই হরমুজ় দিয়ে নিরাপদ যাতায়ত সম্ভব। আপাতত সেটাও দু’সপ্তাহের জন্যই, তা-ও জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আচমকাই হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পরে তাতে যোগ দেয় আমেরিকাও। যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরানও। তার পর থেকে টানা যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের কারণে অশান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী অবরোধ করে রাখার ঘোষণা করে তেহরান। ফলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়। আলোচনার পর ভারত-সহ কয়েকটি দেশের পণ্যবাহী জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার করার ‘অনুমতি’ দেয় ইরান। তবে স্পষ্ট জানায়, আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলির জন্য বন্ধ থাকবে হরমুজ়। হুঁশিয়ারি দেয়, তাদের শর্ত না-মানলে বন্ধই থাকবে হরমুজ়।

তবে হরমুজ় খোলার জন্য বার বার ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। শর্ত, পাল্টা শর্ত নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়। মধ্যস্থতা করতে অগ্রণী ভূমিকা নেয় পাকিস্তান। তবে দিনদুয়েক আগেই ইরান জানায়, তারা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় রাজি নয়। তার মধ্যেই হরমুজ় খোলার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন ট্রাম্প। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হল দু’দেশই।

Advertisement
আরও পড়ুন