Donald Trump on Minneapolis Shooting

অ্যালেক্স হত্যার পর ট্রাম্পের পাঠানো বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি বাড়ছে মিনেসোটায়! কিঞ্চিৎ সুরবদল মার্কিন প্রেসিডেন্টের

গত শনিবার মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্সের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল শহর। নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে দাবি করেছিল, আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালিয়েছিলেন ওই অভিবাসন কর্তা। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের সেই দাবি মানতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৩
Donald Trump says his administration is reviewing everything about Minneapolis incident

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

‌‌

Advertisement

অভিবাসন কর্তার গুলিতে অ্যালেক্স প্রেটির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে। দাবি, শহর থেকে অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে মার্কিন প্রশাসনকে। গোটা বিষয় নিয়ে চাপানউতরের মধ্যে এ বার কিঞ্চিৎ সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্তার গুলি চালানোর বিষয়টি তিনি ‘পছন্দ’ করেন না। তবে এ-ও প্রশ্ন তোলেন, এক জন বিক্ষোভকারীর হাতে কী ভাবে বন্দুক থাকতে পারে? গোটা বিষয়টা পর্যালোচনা করছে তাঁর প্রশাসন, জানালেন ট্রাম্প।

গত শনিবার মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্সের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল শহর। নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে দাবি করেছিল, আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালিয়েছিলেন ওই অভিবাসন কর্তা। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের সেই দাবি মানতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা। সেই আবহে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা সব কিছু পর্যালোচনা করছি। আমি আশাবাদী একটি দৃঢ় সংকল্প বেরিয়ে আসবে।’’

প্রতিবাদকারীকে গুলি চালানোকে ‘সমর্থন’ করেন না বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘আমি গুলি চালানো পছন্দই করি না।’’ পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ-ও জানান, ‘‘বিক্ষোভের নামে হাতে বন্দুক নিয়ে রাস্তায় নামাটাও পছন্দ করি না।’’ তিনি এ-ও জানান, মিনিয়াপোলিস এলাকা থেকে অভিবাসন দফতরের কর্মীদের প্রত্যাহার করা হতে পারে। তবে কবে তাঁরা শহর ছাড়বেন, তার কোনও সময়সীমা সম্পর্কে ধারণা দেননি ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘একটা সময়ে শহরে ছেড়ে চলে যাওয়া হবে। তাঁরা (অভিবাসন কর্মী) তাঁদের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন এবং খুব ভাল কাজ করেছেন।

কেন মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এত জোর দেওয়া হচ্ছে? জনসেবার নামে প্রতারণার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ‘‘আমার দেখা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জালিয়াতি।’’

শনিবার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন দফতরের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন অ্যালেক্সকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ ওঠে আইসিই কর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই যুবককে প্রথমে রাস্তায় ফেলে মারধর করে আইসিই। তার পর এক অফিসার গুলি চালান। দীর্ঘ ক্ষণ রাস্তার উপর পড়ে ছিল যুবকের দেহ। এই ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসে প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে। ঘটনার পর পরই ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘সমর্থন’ করেছিলেন। তবে ওয়াল স্ট্রিট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান থেকে সরে এলেন ট্রাম্প। অনেকের মতে, আন্দোলন, বিক্ষোভ, সমালোচনার কারণেই পিছু হটতে হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।

অন্য দিকে, আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, অ্যালেক্সের হাতে পিস্তল ছিল এবং তিনি হিংসাত্মক ভাবে প্রতিবাদ করছিলেন। তাই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে হয়েছে আইসিই-কে। তবে ঘটনাস্থলে যে সব ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে তার সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের বয়ানের কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি অনেকের।

Advertisement
আরও পড়ুন