Donald Trump on Iran

‘যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে ইরান, কিন্তু আগে খুলে দিতে হবে হরমুজ়’, দাবি ট্রাম্পের! তেহরান বলল ‘ভিত্তিহীন’

ট্রাম্পের মতে, ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট তাঁর পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক কম উগ্র এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান। সদ্য আমেরিকার কাছে তেহরানের তরফে একটি যুদ্ধবিরতির অনুরোধ এসেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫৩
Donald Trump says, Iran’s new regime President, much less Radicalized and far more intelligent than his predecessors

ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আবার তেহরানকে বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করার পাশাপাশি তেহরানকে পরোক্ষ হুমকিও দিয়ে রেখেছেন হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা। যার পাল্টা জবাব এল ইরান থেকে।

Advertisement

ট্রাম্প বুধবার তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘‘ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থার প্রেসিডেন্ট, যিনি তা্ঁর পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক কম উগ্র এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান, সদ্য আমেরিকার কাছে একটি যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছেন! আমরা তা বিবেচনা করব যখন হরমুজ় প্রণালী খোলা, অবরোধমুক্ত এবং পরিষ্কার থাকবে। তত ক্ষণ পর্যন্ত, আমরা ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাব। যেমন তারা বলে, ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব’!’’ ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে ইরানি বিদেশ দফতর বলেছে, ‘‘অসত্য এবং ভিত্তিহীন দাবি। আমাদের তরফে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করা হয়নি।’’

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ‘ইরানের প্রেসিডেন্ট’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করলেও কারও নাম নেননি ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি ‘নতুন শাসনব্যবস্থার’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করায় কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ ইরানের ‘নুতন শাসনব্যবস্থা’র প্রতীক হলে মার্কিন হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের পুত্র মোজ়তবা। অন্য দিকে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েসকিয়ান আদতে আয়াতোল্লার জমানারই প্রবীণ নেতা।

হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ না তুললে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করা হবে বলে গত ৩০ মার্চ হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি তেহরান। এই আবহে বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র প্রধান ফাতিহ বিরোল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এপ্রিল মাসে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে!

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের উপর ইজ়রায়েল ও আমেরিকার বিমান হামলা (যার পোশাকি নাম যথাক্রমে ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) চালিয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, ৮৬ বছরের খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষনেতার। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের কোনও ‘চাপিয়ে দেওয়া শর্ত’ মানা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ইরানের নতুন নেতৃত্ব। ফলে ট্রাম্পের তরফে ইরানের দেওয়া ‘যুদ্ধবিরতির অনুরোধের’ দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।

Advertisement
আরও পড়ুন