—প্রতীকী চিত্র।
দেশের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে চলা গণবিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণে আনতে দমন-পীড়নের পন্থাই নিচ্ছে ইরান। একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, সরকারি নিপীড়নে ইতিমধ্যে নিহতের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছুঁইছুঁই। গ্রেফতারির সংখ্যাও তিন হাজার ছাড়িয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘হুমকি’র পরেই অন্তত ৮০০ জন বন্দি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ডের পরিকল্পনা বাতিল করেছে তেহরান। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নানা কূটনৈতিক পদক্ষেপ করছে বাকি উপসাগরীয় দেশগুলিও।
ট্রাম্প গত কালই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান এ ভাবে মৃত্যুদণ্ড জারি রাখলে আমেরিকাও সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারে। সেই হুমকির মুখে ইরানের তরফে জানানো হয়, সর্বপ্রথম যে যুবককে ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত রাখা হয়েছে। এ-ও জানানো হয়, শুধু ওই যুবকই নন, মোট ৮০০ বিক্ষোভকারীর নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড আপাতত কার্যকর করা হচ্ছে না। এই খবর সামনে আসতেই ইরান নিয়ে ‘ধীরে চলো নীতির কথা’ জানায় ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এরই মাঝে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব, কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশগুলি। সূত্রের খবর, ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সংঘাত যাতে না বাড়ে, তার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা দেখাচ্ছে তারা। একই ভাবে তৎপর ওমানও। নানা মহলের মতে, যদি ইরান-আমেরিকা সংঘাত বাড়ে, তার প্রভাব পড়বে বাকি উপসাগরীয় দেশগুলির উপরেও। যার ফলে প্রভাবিত হতে পারে তেলের দাম, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও। আর যদি খামেনেইকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়, তা হলে তার পরিণতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল। গত বুধবারই ইরান সরকারের এক কর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, যদি আমেরিকা ইরানের উপরে হামলা চালায়, তা হলে পাল্টা হামলা চালাবে তারাও। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা আমেরিকান ঘাঁটিগুলির উপরেও হামলাচালাবে তারা।
ইরানের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদও। ১৫ সদস্যের একটি দল আজ ইরানের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনে। বৈঠকে তেহরানের তরফে জানানো হয়, তাদের দেশ কোনও রকমের সংঘাতে যেতে চায় না। তবে আমেরিকা হামলা চালালে পাল্টা হামলায় পিছপা হবে না তারা। ইরান প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, এই অশান্তিতে মদত জোগাচ্ছে আমেরিকা। তবে ইরান সংক্রান্ত আমেরিকার বিশেষ প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ় দাবি করেছেন যে, ইরান নিজের দেশের আন্দোলনকে সামলাতে না পেরে অন্যকেদেষারোপ করছে।