আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ভারতকে ‘নরককুণ্ডের’ সঙ্গে তুলনা করায় এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোঁচা দিল এ দেশে ইরানের উপদূতাবাস। ভারত কেমন, তা আগে দেখে এসে মন্তব্য করার জন্য ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছে মুম্বইয়ে ইরানের উপদূতাবাস। সঙ্গে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে তারা। ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে বৃহস্পতিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম না করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। হরমুজ় প্রণালী নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের টানাপড়েন এখনও অব্যাহত। এ অবস্থায় ট্রাম্পের উদ্দেশে ইরানের উপদূতাবাসের এই খোঁচা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুম্বইয়ে ইরানের উপদূতাবাসের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডল থেকে মহারাষ্ট্রের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে মহারাষ্ট্রের নগরজীবন, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োটি পোস্ট করে ইরানের উপদূতাবাস লিখেছে, “কারও উচিত ট্রাম্পের জন্য একটি একমুখী সাংস্কৃতিক ডিটক্স (‘ডিটক্সিফিকেশন’ কথাটিকে সংক্ষেপে এই ভাবেই বলা হয়। যার অর্থ শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ বার করে দেওয়া)-এর ব্যবস্থা করা। এতে হয়ত তাঁর ‘বকওয়াস’ (বাজে বকবক করা) কিছুটা কমবে। ভারত কেমন, তা কখনও এসে নিজের চোখে দেখুন। তার পরে কথা বলবেন।”
বিতর্কের সূত্রপাত সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের একটি পোস্টকে ঘিরে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং রেডিয়ো উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট লিখিত আকারে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই পোস্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের যুক্তিগুলির সমালোচনা করতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি লিখেছেন, ‘‘এখানে (আমেরিকায়) একটি শিশু জন্মালে সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। তার পরে তারা চিন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনও ‘হেলহোল’ (নরককুণ্ড) থেকে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।’’ একই সঙ্গে চিনা এবং ভারতীয়দের ‘ল্যাপটপধারী গুন্ডা’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয়, চিনারা আমেরিকার পতাকাকে পদদলিত করে।
এই পোস্ট ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে বিবৃতিও দেয় ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। যদিও তাতে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামোল্লেখ ছিল না। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জওসওয়াল এক লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, না জেনে এই মন্তব্যগুলি করা হয়েছে। এগুলি কুরুচিপূর্ণ এবং এমন মন্তব্য করা উচিত নয়। ভারত-আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পরস্পরের স্বার্থরক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত। এর থেকে ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক প্রতিফলিত হয় না।