Iran Crackdown

দেশের মানুষের কাছে আমরা লজ্জিত, কঠোরতার জন্য ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, তবে পশ্চিমকেও বার্তা

ইরানের সাম্প্রতিক অশান্তি শুরু হয়েছিল মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে। সেই বিক্ষোভ ক্রমে দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে পরিণত হয়। কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করেছে তেহরান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪১
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। —ফাইল চিত্র।

দেশ জুড়ে কঠোর দমনপীড়নের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। তবে সেই সঙ্গে পশ্চিমি শক্তিগুলিকেও বার্তা দিয়ে রাখলেন। সংবাদসংস্থা এপি জানিয়েছে, বুধবার ইরানের সাধারণ জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মাসুদ। নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতাও মেনে নিয়েছেন।

Advertisement

প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘‘দেশ জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনকে কঠোর হাতে যে ভাবে দমন করা হয়েছে, তাতে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। জনগণের কাছে আমরা লজ্জিত। যাঁদের ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের সাহায্য এবং ক্ষতিপূরণে আমরা দায়বদ্ধ। দেশের মানুষের সঙ্গে কোনও রকম সঙ্ঘাত আমরা চাই না।’’

ইরানের সাম্প্রতিক অশান্তি শুরু হয়েছিল মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে। সেই বিক্ষোভ ক্রমে দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে পরিণত হয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ইস্তফার দাবিতে পথে নেমেছিলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ইরান সরকার কঠোর ভাবে সেই সমস্ত বিদ্রোহ দমন করেছে। অভিযোগ, প্রতিবাদীদের জমায়েতে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে। আমেরিকা-সহ একাধিক দেশ এই পরিস্থিতির নিন্দা করেছিল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে অবশেষে সুর নরম করল তেহরান প্রশাসন। ক্ষমা চাইলেন খোদ প্রেসিডেন্ট।

তবে পশ্চিমি প্রচারণার বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন মাসুদ। জানিয়েছেন, প্রতিবাদ আন্দোলন এবং দমননীতির কারণে দেশের মানুষ যে ‘প্রচণ্ড কষ্ট’ পেয়েছেন, তা তিনি জানেন। তবে রক্ত ঝরানোয় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের কথা তিনি সরাসরি স্বীকার করেননি। সেই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। কেবল দাবি করেছেন, জনগণের সঙ্গে সঙ্ঘাত আদৌ সরকারের উদ্দেশ্য নয়। নিন্দা করেছেন ‘পশ্চিমি ষড়যন্ত্রে’র। যদিও সরাসরি আমেরিকার নাম নেননি মাসুদ।

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতার আলোচনা চলছে। কিছু দিন আগে ওমানে এক দফার আলোচনা হয়ে গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় রণতরী মোতায়েন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানও জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যে কোনও মার্কিন হামলা যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে। সেই অনুযায়ী পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।

Advertisement
আরও পড়ুন