Iran-US Tension

৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন ইরানের খামেনেই! নেপথ্যে কি মার্কিন সেনার আনাগোনা এবং ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি?

গত বছরের জুনে ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিন ধরে যুদ্ধ চলেছিল। আমেরিকাও তাতে যোগ দিয়েছিল সাময়িক ভাবে। তবে যুদ্ধবিরতির পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বার ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৪
Iran\\\\\\\\\\\\\\\'s supreme leader Ayatollah Ali Khamenei breaks 37-year-old ritual

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমাগত বাড়ছে মার্কিন সেনার আনাগোনা। অনেকের মনেই প্রশ্ন, এ বার কি তবে ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু করে দেবে আমেরিকা? সরাসরি না-বললেও আমেরিকা বার বার স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের নিশানায় রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়েতোল্লা আলি খামেনেই। আমেরিকার সঙ্গে এই টানাপড়েন, মার্কিন সেনার আনাগোনার আবহে ৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন তিনি!

Advertisement

নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতি বছর ইরানের বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকে যোগ দিয়ে আসছেন খামেনেই। করোনায় গোটা বিশ্ব যখন প্রায় ‘গৃহবন্দি’ তখনও রীতি মেনে সেনাদের বার্ষিক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন তিনি। চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি সেই বৈঠক ছিল। কিন্তু দেখা গেল সেই বৈঠকে ছিলেন না খামেনেই। ১৯৮৯ সালে নেতৃত্বভার গ্রহণ করার পর এই প্রথম বিমানবাহিনীর বার্ষিক বৈঠকে গরহাজির ছিলেন তিনি।

১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবে ইরানের প্রাক্তন শাসক রেজ়া শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হন। ইরানে ভেঙে পড়ে রাজবংশের শাসন। ইরানের এই ইসলামীয় বিপ্লবের জনক ছিলেন রুহোল্লা মুসাভি খোমেইনি। সেই বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমানবাহিনীর একদল কর্তা বার্ষিক সভায় খোমেইনির আনুগত্য স্বীকার করে নেন। খোমেইনি-ই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর উত্তরসূরি খামেনেই। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমানবাহিনীর বার্ষিক সভায় যোগ দেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি, চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমানবাহিনীর বার্ষিক সভায় খামেনেইয়ের পরিবর্তে যোগ দেন ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান আব্দুর রহিম মুসাভি। কেন খামেনেই উপস্থিত হননি, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে অনেকের ধারণা, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কার কারণেই রীতি ভাঙলেন ইরানের নেতা। যদিও ইরান বার বার স্পষ্ট করে দিয়েছে, আমেরিকার কোনও রকম হুমকির সামনে তারা মাথা নোয়াবে না। তেহরানের বক্তব্য, সেনা সজ্জা বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে কোনও ভাবেই তাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।

গত বছরের জুনে ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিন ধরে যুদ্ধ চলেছিল। আমেরিকাও তাতে যোগ দেয় সাময়িক ভাবে। তবে যুদ্ধবিরতির পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বার ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আরব সাগরে মোতায়েন করেছেন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন