ইরানের নৌসেনার কমান্ডার আলিরেজ়া তাংসিরি। —ফাইল চিত্র।
সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ইরানের নৌসেনা প্রধান আলিরেজ়া তাংসিরি। বৃহস্পতিবার এমনটাই দাবি করল ইজ়রায়েল। দাবি করা হচ্ছে, হরমুজ় প্রণালীর ধারে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে এক হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি। যদিও ইরান এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী দৃশ্যত ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে ইরান। বাছাই করা কিছু দেশের জাহাজকে হরমুজ় পার করার ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে তারা। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ়ের ‘দ্বাররক্ষক’ ছিলেন ইরানের এই নৌসেনা প্রধানই। প্রণালীকে ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখার দায়িত্ব ছিল তাঁরই উপরে। বুধবার পাকিস্তানগামী এক জাহাজকেও হরমুজ় পেরোতে বাধা দিয়েছিলেন তিনি। এ বার ইরানের সেই নৌসেনা প্রধানও নিহত হলেন সংঘর্ষে।
ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য জ়েরুজ়ালেম পোস্ট’ বৃহস্পতিবার দাবি করে, বন্দর আব্বাস শহরে এক হামলায় নিহত হয়েছেন আলিরেজ়া। তবে আমেরিকা না ইজ়রায়েলের আক্রমণে তিনি নিহত হয়েছেন, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার বিষয়ে ইজ়রায়েলি বাহিনী সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি। তবে তেল আভিভের প্রতিরক্ষা সূত্র এই রিপোর্ট অস্বীকারও করেনি।
হরমুজ় প্রণালীতে ‘অবরোধ’ তোলার জন্য ইরানের উপরে ধারাবাহিক ভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে যে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, তার মধ্যেও রয়েছে হরমুজ়ের কথা। তবে ইরান এর মধ্যেও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছে। ইরানের কোথাও হামলার চেষ্টা হলে হরমুজ়ের মতো আরও একটি জলপথ বন্ধ করার হুঙ্কার দিয়েছে তারা। জানিয়ে দিয়েছে, হামলা হলে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের সংযোগরক্ষাকারী বাব এল মান্দেব প্রণালী আটকে দেবে তেহরান। এই হুঁশিয়ারির মাঝেই এ বার ইজ়রায়েল দাবি করল, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বন্দর আব্বাস শহরে এক হামলায় নিহত হয়েছেন তেহরানের নৌসেনা প্রধান।