Israel Hezbollah Clash

ইজ়রায়েলে হামলা শুরু ইরানের বন্ধু গোষ্ঠীর! পাল্টা জবাব দিচ্ছে নেতানিয়াহুর বাহিনীও, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল আরও এক দেশ

রবিবার বেশি রাতে ইজ়রায়েলকে নিশানা করে পর পর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী। তার পর প্রত্যাঘাত করে ইজ়রায়েলও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৫
লেবাননের রাজধানী বেইরুটে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। সোমবার ভোরে।

লেবাননের রাজধানী বেইরুটে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। সোমবার ভোরে। ছবি: রয়টার্স।

পশ্চিম এশিয়ার আরও এক দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর কথা তেহরান ঘোষণা করতেই তাদের বন্ধু গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা ইজ়রায়েলে আক্রমণ শুরু করেছে। লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরান সমর্থিত। লেবানন সরকার তাদের পদক্ষেপকে সমর্থন করেনি। তবে হিজ়বুল্লাকে জবাব দিতে ইজ়রায়েল পাল্টা হামলা শুরু করেছে লেবাননেও।

Advertisement

রবিবার বেশি রাতে ইজ়রায়েলকে নিশানা করে পর পর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল হিজ়বুল্লা। সোমবার ভোর থেকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনীও প্রত্যাঘাত শুরু করেছে। লেবাননের রাজধানী বেইরুটের একাধিক অঞ্চলে বোমা পড়েছে। হিজ়বুল্লা অধ্যুষিত অঞ্চলই ইজ়রায়েলের হামলার নিশানায় রয়েছে। সকালে লেবাননের কয়েকটি গ্রাম খালি করে দিতে বলেছে ইজ়রায়েলি বাহিনী। বোমার শব্দে বেইরুটের রাস্তায় বাসিন্দাদের দিশাহারা হয়ে ছুটতে দেখা গিয়েছে।

ইজ়রায়েল সেনা দাবি করেছে, বেইরুটে হিজ়বুল্লার কয়েক জন শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু হয়েছে তাদের হামলায়। গোলাগুলি চলছে। এর আগেও ইজ়রায়েলের সঙ্গে লেবাননের হিজ়বুল্লা বাহিনী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আমেরিকার হস্তক্ষেপে তাদের মধ্যে শান্তি সমঝোতা হয়। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর এই প্রথম সেই চুক্তি লঙ্ঘিত হল। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইজ়রায়েলে হিজ়বুল্লার আক্রমণকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সন্দেহজনক’ বলেছেন। দাবি, এর ফলে দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে এবং ইজ়রায়েল তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ও অজুহাত পেয়েছে। লেবাননে হামলার জন্য হিজ়বুল্লার পদক্ষেপকে দায়ী করেছে ইজ়রায়েলের বাহিনীও।

গত শনিবার ইরানে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার যৌথ বাহিনী। তাতেই মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের। রবিবার সকালে ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা এই খবর নিশ্চিত করতেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। যৌথ বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে ইরানও পাল্টা পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালায়। বোমা ফেলা হয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, কাতারের মতো দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। বুর্জ খলিফাও খালি করে দিতে হয়েছে। বোমা পড়েছে দুবাই বিমানবন্দরে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্রুত সংঘর্ষ থামানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তবে খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে ভারত এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি।

ইরানে খামেনেইয়ের মৃত্যুর ফলে পাকিস্তানেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ ইজ়রায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দা করেছেন। করাচিতে মার্কিন কনসুলেট ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল রবিবার। সেখানে গুলি চলে এবং মৃত্যু হয় অন্তত ১০ জনের। এ ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তের অশান্তিতে আরও কয়েক জন প্রাণ হারিয়েছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও ইরানে বোমাবর্ষণ চলবে আরও অন্তত এক সপ্তাহ। সে দেশে শান্তি ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সেনা। অন্য দিকে, খামেনেইয়ের পর দেশের শাসন চালাতে ইরান একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করেছে। তার মাথায় বসানো হয়েছে খামেনেই ঘনিষ্ঠ আলিরেজা আরাফিকে। আপাতত তিনিই দেশের সর্বোচ্চ নেতা।

Advertisement
আরও পড়ুন