Strait of Hormuz

অনুমতি নেই! হরমুজ় পার করতে গিয়ে ইরানের ‘বাধার মুখে’ পড়ল করাচিগামী জাহাজ, আটকে গেল পারস্য উপসাগরে

ইরানের নৌবাহিনীর দাবি, ‘আইনি প্রোটোকল’ না মানায় এবং ‘অনুমতি’ না-থাকায় জাহাজটিকে হরমুজ় প্রণালী পার করতে দেওয়া হয়নি। তাদের বক্তব্য, এই জলপথ ব্যবহার করতে গেলে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় থাকতে হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৮
হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ।

হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ। —ফাইল চিত্র।

হরমুজ় প্রণালী পার করতে গিয়ে ‘বাধার মুখে’ পড়ল পাকিস্তানগামী জাহাজ। হরমুজ় পেরিয়ে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য জাহাজটিকে অনুমতি দেয়নি ইরান। তেহরানের দাবি, ‘আইনি প্রোটোকল’ না মানার কারণে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল যখন আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

Advertisement

‘সেলেন’ নামে ওই পণ্যবাহী জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ় প্রণালী হয়ে বেরোতে পারল না জাহাজটি। তার আগেই সেটিকে আটকে দেয় ইরানি নৌবাহিনী। ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজ়া তাংসিরি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আইনি প্রোটোকল না মানায় এবং হরমুজ় প্রণালী পার করার অনুমতি না-থাকায় পণ্যবাহী জাহাজ ‘সেলেন’-কে ফিরিয়ে দিয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।” তিনি আরও লেখেন, “এই জলপথ দিয়ে যে কোনও জাহাজ চলাচল করার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় থাকা দরকার।”

তবে ঠিক কী ধরনের ‘আইনি প্রোটোকল’-এর কথা ইরান বোঝাতে চেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবারই রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ সংস্থাকে তেহরান জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে শত্রুতা নেই, এমন দেশের জাহাজগুলিকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে দিতে তারা রাজি। রাষ্ট্রপুঞ্জকে তারা জানিয়েছে, যে সব জাহাজকে ইরান নিজের শত্রু বলে মনে করবে না, তারাই হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগাম সমন্বয় রেখেই চলাচল করতে হবে। একই সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে, ওই জাহাজগুলি যেন ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে জড়িত না থাকে বা মদত না দেয়। ওই অঞ্চলে ইরানের ঘোষিত নিরাপত্তা এবং সুরক্ষাবিধিও সম্পূর্ণ ভাবে মেনে চলতে হবে ওই জাহাজগুলিকে।

বস্তুত, গত কয়েক দিন ধরেই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ থামানোর জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয় পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের। তার পরের দিন, সোমবারই আবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। জানা যাচ্ছে, দু’দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের কাজ করছে পাকিস্তান। আমেরিকা যুদ্ধ থামানোর জন্য যে ১৫ দফা পূর্ব শর্ত দিয়েছে, তা ইরানের কাছে পাঠিয়েছে পাকিস্তানই। দু’পক্ষকে ইসলামাবাদে মুখোমুখি আলোচনাতেও বসাতে চান শাহবাজ়েরা। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানগামী জাহাজ হরমুজ় পার করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন