(বাঁ দিক থেকে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ, বাংলাদেশের বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জ়ারদারি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনে বড় জয়ের পথে এগোচ্ছে বিএনপি। সব কিছু ঠিক থাকলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হতে চলেছেন সে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। জয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তান এবং চিন থেকে এল শুভেচ্ছাবার্তা। তারেককে জয়ের অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। বার্তা এসেছে পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জ়ারদারির কাছ থেকেও। ঢাকায় অবস্থিত চিনের দূতাবাস বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
শাহবাজ় সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের অসাধারণ জয়ে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভোট সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের মানুষকেও অভিনন্দন।’’ এর পরেই দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করার বার্তা দেন পাক প্রধানমন্ত্রী। লেখেন, ‘‘বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে আমাদের ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার অপেক্ষায় আছি। দক্ষিণ এশিয়া এবং তার বাইরে শান্তি, স্থিতি এবং উন্নয়ন আমাদের যৌথ লক্ষ্য। তার জন্য একসঙ্গে কাজ করব।’’
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য বিএনপি দল এবং তারেককে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। জ়ারদারি বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে পাকিস্তান। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রত্যাশী।’’
ঢাকায় অবস্থিত চিনা দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে তারা কাজ করতে আগ্রহী। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘অবাধ, সফল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। সেই সঙ্গে জয়ী দল বিএনপিকেও আন্তরিক অভিনন্দন। আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করে চিন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনার অপেক্ষায় আছি।’’
বাংলাদেশের এ বারের ভোটে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ লড়াই করেনি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। ফলে নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বিএনপি এবং জামাত। এখনও গণনা চলছে। তবে বড় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলেছে খালেদা জিয়ার দল। ভারতের প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে বাংলায় পোস্ট করেছেন। একসঙ্গে কাজের বার্তা দিয়েছেন। তবে হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। দীর্ঘ দিন পরে ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত রুটে শুরু হয়েছে বিমান চলাচল। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির বার্তা দিল পাকিস্তান।