Russia-Ukraine Conflict

ইউক্রেন থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা তরুণই সাহায্য করেন ড্রোন হামলায়! সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ মস্কোর

হামলাকারী ড্রোনগুলিকে আগে থেকেই ট্রাকে করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাশিয়ার ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে। রাশিয়ায় বসেই এক তরুণ এই কাজে ইউক্রেনকে সাহায্য করেছিল বলে সন্দেহ রুশ তদন্তকারীদের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৫ ১৯:৪৯
রুশ সামরিক ঘাঁটিতে গত ১ জুন  ইউক্রেনের ড্রোন হানার সময়ের দৃশ্য।

রুশ সামরিক ঘাঁটিতে গত ১ জুন ইউক্রেনের ড্রোন হানার সময়ের দৃশ্য। —ফাইল চিত্র।

রুশ সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন তরুণের নাম প্রকাশ্যে আনল রাশিয়া। আর্টিয়ম তিমোফেয়েভ নামে এক তরুণ ওই হামলায় জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করছে রুশ প্রশাসন। এমনটাই জানিয়েছে রাশিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রক জানিয়েছে, আর্টিয়েমকে দেশের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রুশ সংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হচ্ছে, আর্টিয়েম ইতিমধ্যে রাশিয়া থেকে অন্যত্র পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন।

Advertisement

আর্টিয়েমের খোঁজে ইতিমধ্যে রাশিয়া জুড়ে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়নি। তিনি রাশিয়া থেকে কাজাখস্তানে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩৭ বছর বয়সি আর্টিয়েম আগে ইউক্রেনেই থাকতেন। ইউক্রেনে পেশাদার ‘ডিস্ক জকি’ (ডিজে) ছিলেন তিনি। পরে রাশিয়ায় বসবাস শুরু করেন ওই তরুণ। রাশিয়ায় একটি পরিবহণ সংস্থা চালু করেছিলেন আর্টিয়াম। রুশ তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, ইউক্রেনের ড্রোন হানার সময়ে যে ট্রাকগুলি ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলি আর্টিয়েমের সংস্থার।

বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, গত ডিসেম্বর থেকেই ওই পরিবহণ সংস্থা চালু করেছিলেন আর্টিয়েম। রুশ সংবাদমাধ্যমগুলিতে বলা হচ্ছে, আর্টিয়েমের সংস্থার অন্তত চারটি ট্রাকের সঙ্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার যোগ পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় আর্টিয়েমের স্ত্রী একাটেরিনা তিমোফিভার ভূমিকাও রুশ তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর। দাবি করা হচ্ছে, দু’সপ্তাহ আগে আচমকাই সমাজমাধ্যম থেকে ‘উবে’ যান আর্টিয়েমের স্ত্রী। তাঁরও খোঁজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

গত রবিবারই রাশিয়ায় ড্রোন হানা চালিয়েছিল ইউক্রেন। বেশ কিছু রুশ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে বোমারু বিমানের উপর আঘাত হানে ইউক্রেনের ড্রোন। মুরমানস্ক, ইরকুটস্ক, ইভানোভো, রিয়াজান এবং আমুর অঞ্চলের মোট পাঁচটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চলেছিল। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ওই হানায় ৪০টিরও বেশি রুশ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, তারা ১১টি রুশ বিমান ধ্বংস করে দিয়েছে ওই ড্রোন হানায়। ওই ড্রোনগুলি হামলার অনেক আগেই রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হামলাকারী ড্রোনগুলিকে আগে থেকেই ট্রাকে করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাশিয়ার ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে। পরে দূরনিয়ন্ত্রিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement
আরও পড়ুন