(বাঁদিকে) জামাতের প্রধান শফিকুর রহমান এবং এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম (ডানদিকে)। —ফাইল চিত্র।
আসনরফা নিয়ে শরিকি টানাপড়েনের মধ্যেই জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে একতরফা ভাবে ২৫৩টিতে প্রার্থী ঘোষণা করল ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি’ (‘জামাত’ নামেই যা)-র নেতৃত্বাধীন পরিচিত জোট। প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা চরমোনাই পিরের নেতৃত্বাধীন ‘দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল’ হিসেবে পরিচিত ‘ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ’-কে দূরে রেখেই একতরফা ভাবে ১০ দলীয় জোটের নেতা প্রার্থী ঘোষণা করায় জোটে ভাঙনের সম্ভাবনা আরও প্রবল হল বলে অনেকে মনে করছেন।
বৃহস্পতিবার দিনভর জোটের বৈঠকের পরে রাতে ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদের ২৫৩টিতে একতরফা ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেন জামাত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং তাদের সহযোগী দলগুলির প্রতিনিধিরা। প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে জামাত ১৭৯ এবং এনসিপি ৩০টিতে লড়বে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২০, খেলাফত মজলিশ ১০, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, এবি পার্টি ৩, দলত্যাগী বিএনপি নেতা-কর্মীদের দল ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ বিডিপি ২ এবং নেজামে ইসলামি পার্টি ২টি আসনে লড়বে।
ঢাকার মগবাজারে জামাতের সদর দফতরে আয়োজিত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে হাজির থাকলেও আসনরফা নিয়ে টানাপড়েনের কারণে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে রফা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখ হিসেবে উঠে আসা ছাত্র-যুব নেতাদের একাংশের গড়া দল এনসিপির জন্য জামাত মাত্র ৩০টি আসন বরাদ্দ করায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অন্য দিকে, একতরফা আসন বরাদ্দে ক্ষুব্ধ ‘ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ’ ঘোষণা করেছে, শুক্রবার তারা নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করবে।
অন্য দিকে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুব নেতাদের একাংশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আগে নতুন দল গড়তে চলেছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নতুন এই রাজনৈতিক মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটতে চলেছে। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণ নেতারা থাকছেন এই দলে। সঙ্গে জামাতের সঙ্গে সমঝোতার প্রতিবাদে এনসিপি ছাড়া নেতা-নেত্রীরাও। প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রকাশিত খবরে দাবি, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করা অনিক রায়, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) ও অলিক মৃ থাকছেন এই প্ল্যাটফর্মে। একদা বামপন্থী ছাত্রনেতা অনিক এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন। লেখক ও সমাজকর্মী তুহিন ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব। আর আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের প্রাক্তন নেতা অলিক ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক।
নতুন প্ল্যাটফর্মে আরও থাকছেন ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি বাকি বিল্লাহ, লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, লেখক ফেরদৌস আরা রুমি, ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মঈন আহমেদ-সহ অনেকে। জামাতের সঙ্গে জোটে নীতিগত আপত্তি জানিয়ে গত ডিসেম্বরে দল ছেড়েছিলেন এসসিপি নেত্রী তাসনিম জারা এবং তাসনূভা জাবীন। জল্পনা থাকলেও তাঁরা নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন না বলেই খবর। তাসনিম এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছাড়াও দলের রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তাসনূভা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ঢাকা-১৭ আসনে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তিনি ভোটে লড়ছেন না।