US Iran Tensions

যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে যেতে পারে আমেরিকা? ট্রাম্পের নয়া হুমকি ঘিরে প্রশ্নবিদ্ধ হোয়াইট হাউসও! জবাব এল, ‘আইন মেনেই চলব’

ইরানের জল পরিশ্রুতকরণ কেন্দ্রগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকা এমন কিছু করলে তা ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে ধরা হতে পারে— এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ছে হোয়াইট হাউসও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৪
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের বিভিন্ন অসামরিক পরিকাঠামোয়, এমনকি জল পরিশ্রুতকরণ কেন্দ্রগুলিতেও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর এই নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়ে কি যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে পড়বে আমেরিকা? এমন ‘অস্বস্তিকর’ প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে হোয়াইট হাউসকেও। যদিও হোয়াইট হাউসের জবাব, আইন মেনেই পদক্ষেপ করবে মার্কিন বাহিনী।

Advertisement

সোমবার নতুন করে ইরানকে হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, দ্রুত সমঝোতা না-হলে এবং হরমুজ় খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তৈলক্ষেত্র এবং খার্গ দ্বীপ-সহ বিভিন্ন অসামরিক জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা চালাবে আমেরিকা। জলশোধনকেন্দ্রেও হামলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আমেরিকা এমন কিছু করলে তা ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে ধরা হতে পারে— কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানাচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘর্ষের সময়ে কোনও অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসাবে গণ্য হবে, তা সে যে পক্ষই হোক।

ট্রাম্পের এমন হুমকির পরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আমেরিকার অন্দরেও। বিদেশনীতি সংক্রান্ত মার্কিন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ়’-এর গবেষক ডেভিড মাইকেলের কথায়, জলশোধনকেন্দ্রে হামলা হলে তা এই উত্তেজনায় আরও উস্কানি দেবে। ট্রাম্পের নতুন হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাতারের ‘দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ়’-এর অধ্যাপক লরেন্ট ল্যামবার্টও। তাঁর মতে, ইচ্ছাকৃত ভাবে জলশোধনকেন্দ্রে হামলা হলে তা একদিকে যেমন বেআইনি এবং যুদ্ধাপরাধ, তেমনই এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা হবে। কারণ উপসাগরীয় দেশগুলির কাছে মাত্র কয়েক সপ্তাহের জল মজুত রয়েছে। এই ধরনের কোনও হামলায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ও।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের জন্য প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে হোয়াইট হাউসকেও। সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকার পরেও কেন ট্রাম্প এমন মন্তব্য করলেন, তা জানতে চাওয়া হয় লেভিটের কাছে। তাতে দৃশ্যত ঈষৎ অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রকে। সাংবাদিককে তিনি বলেন, “কিছু কিছু বিশেষজ্ঞের শিখিয়ে দেওয়া প্রশ্ন করছেন আপনি।” যদিও পরে লেভিট জানান, মার্কিন বাহিনী সবসময় আইন মেনেই চলবে।

Advertisement
আরও পড়ুন