মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ফাইল চিত্র।
শান্তিচুক্তি কি বাস্তবায়িত হবে? আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রবিবার আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি বসতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরান। এই বৈঠকে কি কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে, শান্তির পরিবেশ পুনর্বহাল হবে কি পশ্চিম এশিয়ায়, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে পৌঁছোন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পৌঁছোনোর আগেই অবশ্য সুইৎজ়ারল্যান্ডে শনিবার পৌঁছে যান ইরানের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বার্জেনস্টক রিসর্টে ওঠেন। এই প্রথম দু’দেশ উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে বসছে।
ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ভান্স বলেন, ‘‘এই আলোচনা নিয়ে আমরা আশাবাদী। পরমাণু কর্মসূচি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি— বৈঠকে এই বিষয়গুলির উপরই জোর দেওয়া হবে। এই দু’টিই সবচেয়ে বড় বিষয় এখন। স্বাভাবিক ভাবেই এই দু’টি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। আশা করছি, এই দু’টি বিষয় নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত মিটে যাবে।’’
প্রসঙ্গত,
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছে দুই বিবদমান দেশ। সমঝোতাপত্রে ১৪টি শর্তের কথা বলা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ৬০ দিন ধরে দু’দেশ আলোচনা চালাবে। অমীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে এই পর্বে। প্রয়োজনে দু’পক্ষের সম্মতিতে ৬০ দিনের সেই সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলে ওই সমঝোতাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল যে, সপ্তাহান্তে ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদল ফের বৈঠকে বসতে পারে। সেই অনুযায়ী রবিবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা এবং ইরান।
এই আলোচনা শুক্রবার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়। আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষরের পরেও লেবাননে সামরিক অভিযান এবং হামলা জারি রেখেছিল। ঘটনাচক্রে, সমঝোতাপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসাবে বলা হয়েছিল যে, লেবানন-সহ পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সহযোগী দলগুলির বিরুদ্ধে সমরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। তাতে সম্মত হয় আমেরিকা। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লেবাননে হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল। তারই প্রতিবাদে শুক্রবারের বৈঠক বাতিল করে দেয় ইরান। কিন্তু তড়িঘড়ি আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশ কাতার এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়। কূটনৈতিক স্তরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লাকে যুদ্ধবিরতির পথে নিয়ে আসা হয়। তার পরই পরবর্তী আলোচনার জন্য সম্মতি দেয় ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ, বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং প্রশাসনের শীর্ষ নেতারা সুইৎজ়ারল্যান্ডে পৌঁছোন শনিবার। কিন্তু দু’দেশের আলোচনার আগেই শনিবার আবার নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। লেবাননে ইজ়রায়েলের হামলার প্রতিবাদে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় ইরান। তাই এই পরিস্থিতিতে রবিবার দু’দেশের আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, এখন সে দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।