মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
হুঁশিয়ারি, পাল্টা হুঁশিয়ারি! সামরিক অভিযানের পাশাপাশি চলছে বাগ্যুদ্ধও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ‘শান্তি’ চান। আর সেই ‘শান্তির’ জন্য ‘শক্তিপ্রয়োগ’ করতে দ্বিধাবোধ করবেন না বলে জানালেন ট্রাম্প।
হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের ‘বাধা’ নির্মূল করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। দিন দু’য়েক আগে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানিয়েছিলেন, যদি তারা হরমুজ় প্রণালী খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। সেই ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবারই। সেই আবহে ট্রাম্পের পোস্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘‘সহজ কথায় বলতে গেলে শক্তির মাধ্যমে শান্তি!’’ অর্থাৎ, ট্রাম্প বুঝিয়েছেন, শান্তি ফেরাতে আরও শক্তিপ্রয়োগ করতে চান। উল্লেখ্য, ঠান্ডা যুদ্ধের সময় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন এই নীতি অবলম্বের কথা বলেছিলেন। রেগনের উক্তিরই প্রতিফলন দেখা গেল ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যালে’।
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা এবং হুমকিতে দমেনি ইরান। তারাও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে আমেরিকাকে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে আমেরিকা পরিচালিত বহু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, তৈল শোধনাগার এবং পানীয় জল পরিশোধন সংস্থাও রয়েছে। সেগুলিকেও নিশানা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। তেহরানের কথায়, ‘‘আমেরিকা যদি ইরানের শক্তি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়, আমরাও চুপ করে বসে থাকব না। পশ্চিম এশিয়ায় ওদের যত তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, শক্তিকেন্দ্র, পানীয় জল শোধনকেন্দ্র আছে সেগুলিকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পরে সেই সামরিক অভিযানে যোগ দেয় আমেরিকাও। হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন এবং ইজ়রায়েল ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হামলা, পাল্টা হামলায় তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। তার মধ্যেই হরমুজ় প্রণালী ‘দখল’ করে রেখেছে ইরান। প্রথমে তাদের হুঁশিয়ারি ছিল, ওই প্রণালী দিয়ে কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে পারাপার করতে দেওয়া হবে না। তবে বর্তমানে সেই হুমকির সুর কিছুটা নরম করছে ইরান। বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে আগ্রহ প্রকাশ করে ইরান। রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক জলপথ সংস্থা (আইএমও)-র সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতাও করতে চায় তারা। বাকিদের জন্য জলপথ খুলে দিতে আগ্রহী হলেও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে এই ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। ইতিমধ্যে ভারত, চিন, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপানের জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার করার ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে ইরান।