Iran War

‘আমেরিকা আর কিন্তু আপনাদের পাশে থাকবে না’! হরমুজ় সঙ্কট নিয়ে কেন ব্রিটেনকে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প?

নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনকে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, ‘ইরান প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। অভিযানে কঠিন অংশ শেষ। এ বার নিজেরাই গিয়ে নিজের তেল নিয়ে আসুন’।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩২
US won’t be there to help you anymore, Donald Trump urges UK, others to go to Strait of Hormuz and take oil

ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে পেন্টাগনের সঙ্গী হতে অস্বীকার করায় এ বার ব্রিটেনকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই সঙ্গে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের অবরোধের জেরে জ্বালানি সমস্যাকেও জুড়ে দিলেন সেই প্রসঙ্গে।

Advertisement

নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ব্রিটেনকে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, ‘‘যে সব দেশ হরমুজ় প্রণালী অবরোধের কারণে জেট জ্বালানি পাচ্ছে না, যেমন ব্রিটেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ— নম্বর ১, আমেরিকা থেকে কিনুন, আমাদের প্রচুর আছে, এবং নম্বর ২, কিছু বিলম্বিত সাহস সঞ্চয় করুন, প্রণালীতে যান, আর সরাসরি নিয়ে আসুন।’’ এর পরেই ওই পোস্টে তাঁর হুঁশিয়ারি— ‘‘আপনাদের নিজেদের জন্য লড়াই করা শিখতে শুরু করতে হবে। আমেরিকা আর আপনাদের সাহায্য করতে থাকবে না, ঠিক যেমন আপনারা আমাদের জন্য ছিলেন না। ইরান প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। অভিযানের কঠিন অংশ শেষ। নিজেরাই গিয়ে নিজের তেল নিয়ে আসুন।’’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর কয়েক দিন আগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ দাবি করেছিল, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে ব্রিটিশ বায়ুসেনার (রয়্যাল এয়ার ফোর্স) ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরান আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘনের যুক্তি দিয়ে অনুমতি দেননি। সে সময় ওয়াশিংটনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো না-হলেও ট্রাম্পের মঙ্গলবারের হুঁশিয়ারিতে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনের সত্যতার ছাপ স্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকেই।

ট্রাম্প সোমবার সমাজমাধ্যমে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘‘ইরানে আমাদের সামরিক অভিযান শেষ করার জন্য একটি নতুন, এবং আরও যুক্তিসঙ্গত এবং গভীর আলোচনা চলছে। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছে। কিন্তু যদি কোনও কারণে খুব শীঘ্রই একটি চুক্তি না-হয়, যা সম্ভবত হবে এবং যদি হরমুজ় প্রণালী অবিলম্বে ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’ না-করা হয়, তবে আমরা ইরানে আমাদের ‘নরম উপস্থিতিতে’ ইতি টানব। তাদের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ (এবং সম্ভবত সমস্ত লবণাক্ততা অপসারণ কেন্দ্রও!) উড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দেব।’’ কিন্তু তাঁর ওই হুঁশিয়ারির পরেও কোনও নমনীয় অবস্থান দেখায়নি মোজ়তবা খামেনেই-মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের দেশ।

Advertisement
আরও পড়ুন