জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রসঙ্গ উঠলে চন্দননগরের কথা আপনা থেকেই চলে আসে। মণ্ডপ থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা, সব কিছুর টানেই অগুন্তি মানুষ ছুটে যান সেখানে।
জগদ্ধাত্রী পুজোর জনপ্রিয়তার নিরিখে চন্দননগরের নাম সর্বজনবিদিত হলেও জানেন কি, এই পুজোর জন্ম হয়েছিল নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে?
কিন্তু কী ভাবে? রইল নেপথ্যের ইতিহাস।
কথিত, নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকালে নবাব আলিবর্দি খাঁ তাঁর থেকে ১২ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে মুর্শিদাবাদে বন্দি করা হয়।
এর পরে বন্দিদশা কাটিয়ে যখন রাজা ফেরেন, তত দিনে দুর্গাপুজোর বিসর্জনের সুর সর্বত্র।
স্বাভাবিক ভাবেই দুর্গাপুজোয় উপস্থিত না থাকতে পেরে অত্যন্ত হতাশ হন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। বলা হয়, সেই রাতেই নাকি তাঁর স্বপ্নে আসেন দেবী জগদ্ধাত্রী।
সেই থেকেই শুরু… নিষ্ঠাভরে জগদ্ধাত্রীর আরাধনা শুরু হয় বাংলায়।
তৎকালীন সময়ে কৃষ্ণনগরের রানি রাজবাড়িতে বসেই জগদ্ধাত্রীর দর্শন করতেন। এ কথা জানতেন?
তখন থেকেই নিয়ম মেনে দেবীর বিসর্জনের আগে রাজবাড়ির সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে আনতে হয় প্রতিমাকে।
পরবর্তীতে সেই পুজো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী চন্দননগরে শুরু করেন দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজো। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।