US tariff on India

কেন ফের বিশেষ কিছু ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত কর বসাতে চায় আমেরিকা? কতটা প্রভাব পড়বে বাণিজ্যচুক্তিতে?

সংশ্লিষ্ট মহলের অবশ্য আশঙ্কা, শুল্ক ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তায় ফের পণ্ড হতে পারে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ০৮:৫১
Share:

ভারতের পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিল আমেরিকা। ফাইল চিত্র।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফা চূড়ান্ত করতে নয়াদিল্লিতে তিন দিনের বৈঠক চলছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। তার মধ্যেই আচমকা ফের ভারতের পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিল আমেরিকা। তাদের অভিযোগ, ভারত-সহ ৫৪টি দেশে পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না। এর অন্যতম শ্রমিকদের দিয়ে জোর করে কাজ করিয়ে নেওয়া। তাই এই উদ্যোগ। আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যে বসবে অতিরিক্ত ১২.৫% শুল্ক। ফলে ফের অস্বস্তিতে মোদী সরকার। তড়িঘড়ি বাণিজ্য মন্ত্রকের বার্তা, এ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা। সমান্তরাল ভাবে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা নিয়েও কথা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্যে শুল্ক চাপবে না। বস্ত্রের মতো কিছু ক্ষেত্রে কম শুল্ক চাপতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ২২ জুন পর্যন্ত মত জানানোর সুযোগ রয়েছে সব দেশের।

সংশ্লিষ্ট মহলের অবশ্য আশঙ্কা, শুল্ক ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তায় ফের পণ্ড হতে পারে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা। এর আগে বিরোধীদের কটাক্ষ ছিল, ভারত আমেরিকার জন্য বাজার খুলে দেয় আর আমেরিকা তার বদলে শাস্তিমূলক কড়া পদক্ষেপ করে। শুল্ক নিয়ে জটিলতা কাটার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ‘বন্ধুত্বের বার্তা’ চালাচালি নিয়েও দানা বাঁধে সমালোচনা। এ বারের শুল্ক বৃদ্ধির বার্তার পরে যা আরও বাড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে। ক্ষুব্ধ বাণিজ্য উপদেষ্টা জিটিআরআই-ও। তাদের মতে, একে চ্যালেঞ্জ জানানো উচিত। ৩০১ অনুচ্ছেদ অনুসারে এ ধরনের শুল্ক বসানোর প্রস্তাব দেওয়া যায় না। তা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আমেরিকার প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ট্রাম্প-শুল্ক সে দেশের আদালতে খারিজ হওয়ার পরে সাময়িক ভাবে ফের ১০% চাপিয়েছেন তিনি। কিন্তু অচিরেই তার মেয়াদ শেষ হবে। তাই কোনও না কোনও পথে শুল্ক আদায়ে মরিয়া তাঁর প্রশাসন।

ভারত-সহ ৬০টি সহযোগী দেশ বাণিজ্যে দেওয়াল তুলতে ও আমেরিকার উৎপাদন শিল্পকে ধাক্কা দিতে পদক্ষেপ করেছে কি না, বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে মার্চে তা-ই খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি বিভাগ (ইউএসটিআর)। তাদের অভিযোগ ছিল, দেশগুলি ‘বিভিন্ন অন্যায্য নীতি’ আনায় সমস্যায় পড়েছে আমেরিকার শিল্প ও কর্মীরা। অনৈতিক কিছু পেলে নতুন শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এ বার ইউএসটিআর-এর বার্তা, এই সমস্ত দেশ জোরপূর্বক শ্রম বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পথে তৈরি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে আমেরিকা। সে দেশের কর্মীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। গ্রিয়ারের প্রস্তাব, শুল্ক বসতে পারে কমপক্ষে ১০%। ভারতে ১২.৫%। যা জুনের শেষ বা জুলাইয়ে খতিয়ে দেখে কার্যকর করা হতে পারে। ভারতের যদিও দাবি, অভিযোগ ঠিক নয়। এ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত বাণিজ্য চুক্তির বৈঠকেই।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথার মধ্যেই এই আচরণ আপত্তিজনক। ফলে তার সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সের্জিয়ো গোরের যদিও দাবি, বাণিজ্য চুক্তি প্রায় ৯৯% সম্পূর্ণ। ১% কাজ বাকি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা সই হওয়ার সম্ভাবনা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন