—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
মূলধনী খরচ বজায় রাখতে এবং বর্তমানে বিশ্ব জোড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে উন্নয়নকে পাখির চোখ করতে কৌশল স্থির করে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদের ব্যবহার করা জরুরি বলে মনে করে সিআইআই। বাজেট প্রস্তুতি পর্বে মোদী সরকারকে বণিকসভাটির পরামর্শ, এ জন্য চাহিদা বুঝে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণের পথে হাঁটুক তারা। বেছে নিক এমন ক্ষেত্রগুলিতে, যেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলি পা রাখলে দক্ষতা বাড়বে, উন্নত হবে প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিতে পারবে ভারত। ঠিকমতো পরিকল্পনা করে এগোতে পারলে এই বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে সরকারের ঘরে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা আসার সম্ভাবনা বলেও বণিকসভার মত।
বেসরকারিকরণের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে সিআইআই-এর ডিজি চন্দ্রাজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বর্তমানে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি পরিচালিত হচ্ছে বেসরকারি ক্ষেত্র এবং উদ্ভাবনের হাত ধরে। তাই ‘বিকশিত ভারতের’ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আনা বেসরকারিকরণ নীতি কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে পারে। যার হাত ধরে শিল্পে তো বদল আসবেই, তৈরি হবে নতুন কাজও। আর এই প্রেক্ষিতেই মোদী সরকারের কৌশলগত বিলগ্নিকরণ নীতির দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করে সিআইআই। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে সামান্য। আর বাকিগুলিতে কোনও সংস্থার রাশ আর সরকারের হাতে থাকবে না।
এই পুরো বিষয়টি কার্যকর করতে চারটি আলাদা দাওয়াই-ও দিয়েছে সিআইআই। তাদের মতে—
প্রথমত, বেসরকারিকরণের জন্য কোন ক্ষেত্রে চাহিদা বেশি, তা বুঝে সংস্থা বাছাই করা হোক। এখন অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সংস্থা বাছাইয়ের পরে বিক্রির জন্য দরপত্র চায় এবং তাতে সাড়া না পেলে পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়। যে কারণে আগে লগ্নিকারীদের আগ্রহ ও ঠিকমতো বাজারদর পাওয়া যাবে কি না, তা বুঝে নিয়ে সংস্থা বাছাই করা দরকার। এতে বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া গতি পাবে। কেন্দ্রেরও লাভ।
দ্বিতীয়ত, লগ্নিকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বেশি সময় দিতে পরিকল্পনা করার জন্য তিন বছরের পাইপলাইন তৈরি করা হোক। তাতে গোটা প্রক্রিয়াও আরও স্বচ্ছ হবে। কোন কোন সংস্থা এই সময়ে বেসরকারিকরণের জন্য তোলা হবে, তার উল্লেখ থাকবে সেখানে।
তৃতীয়ত, বেসরকারিকরণের তদারকি, লগ্নিকারীদের আস্থা বাড়ানো ও দায়ব্ধতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা জরুরি। এ জন্য তৈরি হোক মন্ত্রী পর্ষদ। যারা বিষয়টি পেশাদারি ভাবে পরিচালনা করবে এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলবে।
চতুর্থত, বেসরকারিকরণ সময়সাপেক্ষ এবং জটিল বিষয়। ফলে সরকার চাইলে তিন বছরের রূপরেখা তৈরি করে অংশীদারি ধাপে ধাপে ৫১ শতাংশে নামাক। পরবর্তীকালে তা নামানো হোক ২৬-৩৩ শতাংশে।
সিআইআই-এর বিশ্লেষণ, ৭৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ারে সরকারের অংশীদারি ৫১ শতাংশে নামালে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রের হাতে আসতে পারে। প্রথম দু’বছরে এমন ৫৫টিকে বাছা যেতে পারে, যেগুলিতে শেয়ার ৭৫% বা তার কম। তাতে প্রায় ৪.৬ লক্ষ কোটি সংগ্রহ করা সম্ভব। পরবর্তী পর্যায়ে সরকারের হাতে ৭৫ শতাংশের বেশি অংশীদারি থাকা ২৩টি সংস্থার শেয়ার বেচে তারা পেতে পারে আরও প্রায় ৫.৪ লক্ষ কোটি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে