— প্রতীকী চিত্র।
ভারতের শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির পুঁজি তুলে নেওয়ার গতি আশঙ্কাজনক পর্যায় পৌঁছেছে। যা উদ্বেগের বিষয় বলেই দাবি আর্থিক বিশেষজ্ঞদের। এনএসডিএল-এর পরিসংখ্যানে প্রকাশ, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলতি বছরের মাত্র চার মাসে শেয়ার বেচে এ দেশের বাজার থেকে প্রায় ১.৯২ লক্ষ কোটি টাকার পুঁজি তুলে নিয়েছে ওই সব সংস্থা। এটা নজিরবিহীন তো বটেই, পেরিয়েছে গত বছর জুড়ে ভারত ত্যাগ করা ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশি লগ্নির অঙ্ককেও। শুধু এপ্রিল ধরলে, তা প্রায় ৬০,৮৪৭ কোটি। গত চার মাসের মধ্যে একমাত্র ফেব্রুয়ারিতে বিদেশি সংস্থাগুলি নিট হিসেবে ভারতে ২২,৬১৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিল।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, মোদী সরকার ভারতের অর্থনীতি মজবুত বলে দাবি করলেও বিদেশি লগ্নিকারীদের আস্থা কমছে কেন? ইরান যুদ্ধের প্রভাব মূলত জ্বালানির বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেই কি? কারণ, ভারত তেল-গ্যাসের ক্ষেত্রে বিশ্ব বাজার নির্ভর। একাংশের দাবি, আমেরিকায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে। ফলে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি ভারতের মতো সম্ভাবনাময় বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার বদলে আমেরিকার বন্ডে বিনিয়োগ করাকে বেশি নিরাপদ মনে করছেন। অনেকের আবার বক্তব্য, এত পড়েও ভারতে শেয়ার বাজার চড়া। তুলনায় শেয়ারের দাম কম চিনে। তাই একাংশ পড়শি দেশেও পুঁজি সরাচ্ছেন।
মর্নিংস্টার ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ ইন্ডিয়ার প্রিন্সিপাল ম্যানেজার গবেষক হিমাংশু শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অশোধিত তেলের দামকে বাড়িয়ে দেওয়ায় এবং দেশে মূল্যবৃদ্ধির উদ্বেগ মাথা তোলায় ভারত থেকে বিদেশি লগ্নি প্রস্থানের গতি বেড়েছে।’’ তাঁর আশঙ্কা, এই বিষয়টি অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের ভরসাও কমাতে পারে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে