রেটিং একই, আশা মেটাল না ফিচ-ও

কেন্দ্রের দাবি ছিল, চড়া বৃদ্ধির কক্ষপথে ফিরতে শুরু করেছে ভারতের অর্থনীতি। জিএসটি চালু হয়েছে। ছুটছে সংস্কারের রথ। তাই মূল্যায়ন বা রেটিং ভাল হওয়া উচিত ভারতীয় অর্থনীতির। কিন্তু তাতে ‘কান না দিয়ে’ রেটিং একই রেখেছে ফিচ। এই নিয়ে টানা ১২ বছর।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৪২
Share:

মুডি’জ-এর হাত ধরে আশা জেগেছিল। কিন্তু তাতে জল ঢেলেছিল এসঅ্যান্ডপি। আর এ বার কেন্দ্রের রেটিং বৃদ্ধির আশা পূর্ণ হল না আর এক মূল্যায়ন বহুজাতিক ফিচ-এর কাছেও। গত এক বছর ধরে কেন্দ্রের লাগাতার সওয়ালের পরেও ভারতের রেটিং একই রাখল তারা।

Advertisement

কেন্দ্রের দাবি ছিল, চড়া বৃদ্ধির কক্ষপথে ফিরতে শুরু করেছে ভারতের অর্থনীতি। জিএসটি চালু হয়েছে। ছুটছে সংস্কারের রথ। তাই মূল্যায়ন বা রেটিং ভাল হওয়া উচিত ভারতীয় অর্থনীতির। কিন্তু তাতে ‘কান না দিয়ে’ রেটিং একই রেখেছে ফিচ। এই নিয়ে টানা ১২ বছর। বলেছে ঘাটতি, সরকারি ঋণ, এমনকী দুর্বল প্রশাসনের কথা। অনেকে বলছেন, ছাপ্পান্ন ইঞ্চির ছাতির প্রধানমন্ত্রীর সরকারের কাছে তা খুব একটা সুখকর নয়। তবে অর্থনীতি সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গী ‘স্থিতিশীল’ (স্টেব্‌ল) রেখেছে তারা। আশা প্রকাশ করেছে আগামী দিনে বৃদ্ধির হার চাঙ্গা থাকার বিষয়েও।

এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গত বছর ভারতের রেটিং বাড়িয়েছিল মুডি’জ। কেন্দ্রের আশা ছিল, সেই পথে হেঁটে ফিচ এবং এসঅ্যান্ডপি-ও রেটিং বাড়াবে। কিন্তু এসঅ্যান্ডপি নভেম্বরেই জানিয়েছিল ভারতের রেটিং বদলানো হবে না।

Advertisement

ফিচ অবশ্য বলেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে মাঝারি মেয়াদে ভারতের বৃদ্ধির হারই দ্রুততম হবে। চলতি অর্থবর্ষ ও আগামী বছরে তা দাঁড়াবে ৭.৩% এবং ৭.৫%।

ক্রেডিট রেটিং কী?

• কোনও ব্যক্তি, সংস্থা বা দেশকে ঋণ দেওয়া কতটা ঝুঁকির, তারই মূল্যায়ন ক্রেডিট রেটিং। অর্থাৎ, রেটিং যত ভাল, তাকে ধার দেওয়ার ঝুঁকিও তত কম। তাই রেটিং বাড়লে, তুলনায় কম সুদে ধার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কমে সুদের বোঝা

মূল্যায়ন করে কারা?

• বিশ্বে প্রধান তিন রেটিং সংস্থা হল— এসঅ্যান্ডপি, মুডি’জ এবং ফিচ। তিনটিই মার্কিন সংস্থা

এ দিন কী হল?

• ভারতের রেটিং একই (BBB-) রাখল ফিচ। অর্থনীতি সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গীও আগের মতোই, স্থিতিশীল আর বাকিরা?

• নভেম্বরে ভারতের রেটিং এক ধাপ বাড়িয়েছিল মুডি’জ। Baa3 থেকে তা হয়েছিল Baa2

• এসঅ্যান্ডপি অবশ্য তা একই (BBB-) রেখেছে

ফিচের হুঁশিয়ারি

• ঘাটতির পরিমাণ উদ্বেগের

• চড়া সরি ঋণেররকা পরিমাণ

• প্রশাসন দুর্বল • পিছিয়ে জীবনযাত্রার মানও

কিন্তু তা সত্ত্বেও রেটিং না বাড়ানোর কারণ কয়েকটি চিন্তা। যেমন তারা বলেছে, গত অর্থবর্ষে সরকারি ঋণ জাতীয় আয়ের ৬৯%। প্রশাসন দুর্বল। তার উপর রাষ্ট্রপুঞ্জের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সূচকেও নীচের দিকে রয়েছে ভারত। আর সম্ভবত এই সমস্ত কারণেই তাদের চোখে অন্তত এখনকার মতো তৃতীয় ডিভিশনে কোনও মতে পাশ করা ছাত্রদের সারিতে রইল ভারতের অর্থনীতি। লগ্নিযোগ্য রেটিংয়ের একেবারে নীচের ধাপে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement