AI in IT Return

নিমেষে ফাঁকা অ্যাকাউন্ট, সঙ্গে শাস্তির সম্ভাবনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভরসায় রিটার্ন দাখিল ‘হাতে হ্যারিকেন’ হওয়ার আশঙ্কা!

আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে বর্তমানে অনেকেই ভরসা করছেন চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাইয়ের মতো কৃত্রিম মেধার উপর। এই কাজে এআই টুল ব্যবহারের জেরে বড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে তাঁদের, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১৪:৪১
Share:

—প্রতীকী ছবি।

করের হিসাব থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিল। এই কাজের জন্য আর পেশাদারদের কাছে যাচ্ছেন না আমজনতার একাংশ। পরিবর্তে কৃত্রিম মেধার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) উপর ভরসা রাখছেন তাঁরা। ফলে আইটিআর (ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন) জমার ক্ষেত্রে দেদার ব্যবহার হচ্ছে চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই বা ক্লাউডের মতো এআই প্রযুক্তি। বিষয়টি নজরে আসায় উদ্বিগ্ন ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের দাবি, কৃত্রিম মেধার সাহায্যে আয়কর রিটার্ন জমার বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত, এর জন্য করদাতার ১৬ নম্বর ফর্মের যাবতীয় তথ্য চলে যাচ্ছে চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই ও ক্লডের হাতে। সংশ্লিষ্ট এআই টুলগুলি কতটা নিরাপদ, তা স্পষ্ট নয়। ফলে ওই তথ্য কোনও ভাবে সাইবার অপরাধীদের হাতে গেলে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, কৃত্রিম মেধা করের হিসাব সব সময় যে সঠিক করছে, এমনটা নয়। ফর্ম ১৬ আপলোডের পর বহু ক্ষেত্রে টাকার হিসাবে ভুরি ভুরি গরমিল লক্ষ করা গিয়েছে। সূত্রের খবর, ব্যাঙ্কের সুদ থেকে প্রাপ্ত আয়ে এআই টুলগুলির ভুলের মাত্রা সর্বাধিক। আর তাই এই প্রযুক্তির সাহায্যে রিটার্ন জমা করে বিপাকে পড়ছেন করদাতাদের একাংশ।

Advertisement

বিশ্লেষকদের কথায়, কর বা রিটার্ন নথি জমার ক্ষেত্রে আইন মাথায় রেখে হিসাব কষতে হয়। এর বহু ধারা ও উপধারা রয়েছে। বাজারচলতি কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির পক্ষে সেগুলি বুঝে নিয়ে করদাতাকে সমাধানসূত্র বাতলে দেওয়া কঠিন। উল্টে ভুল নথি পেশের জন্য জরিমানা বা অন্যান্য আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।

তা ছাড়া বিভিন্ন পেশার মানুষের রিটার্ন দাখিলের আলাদা আলাদা ফর্ম রয়েছে। বহু ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিকে ভুল ফর্ম বাছতে দেখা গিয়েছে। এই ধরনের ভ্রান্তি সংশোধন করা বেশ কঠিন। এতে অকারণে সরকারের চোখে ‘সন্দেহজনক’ হয়ে উঠতে পারেন সংশ্লিষ্ট করদাতা। তথ্য গোপনের অভিযোগে বিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কাও অমূলক নয়।

আর তাই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন মুম্বইয়ের একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট সংগঠনের যুগ্ম সচিব মৃণাল মেহতা। তিনি বলেছেন, ‘‘আইটিআর দাখিলের ক্ষেত্রে এআই হচ্ছে একটা বিপজ্জনক স্বয়ংক্রিয় পাইলট। করদাতাকে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। রিটার্ন ফর্মে তিনি আয়ের যে অঙ্ক লিখবেন, তার আইনি দায় তাঁকেই নিতে হবে। সেখানে ভুলভ্রান্তি হলে শাস্তি পাবেন ওই ব্যক্তি, কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি নয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement