চাহিদা নামমাত্র। ফলে এই মুহূর্তে কলকাতায় কার্যত তলানিতে ঠেকেছে ফ্ল্যাট বিক্রির ব্যবসা। এবং তা এতটাই যে, বিক্রির নিরিখে দেশের প্রথম আটটি শহরের তালিকায় সব শেষে ঠাঁই হয়েছে তার। দামি এবং কম বা মাঝারি দামি, ছবিটা সমস্ত ক্ষেত্রেই এক। চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসের এক সমীক্ষায় এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্পত্তি উপদেষ্টা সংস্থা নাইট ফ্র্যাঙ্ক।
গত জানুয়ারি থেকে জুনে আবাসন ব্যবসার হাল-হকিকত বুঝতে কলকাতার পাশাপাশি নাইট ফ্র্যাঙ্কের সমীক্ষা চলেছে মুম্বই, দিল্লি-সহ রাষ্ট্রীয় রাজধানী অঞ্চল, বেঙ্গালুরু, পুণে, চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও আমদাবাদে। উপদেষ্টা সংস্থাটির দাবি, সব শহরেই গত প্রায় আড়াই বছর ধরে নতুন আবাসন প্রকল্প তৈরি বা বিক্রির রেখাচিত্র নিম্নমুখী। তবে কলকাতার অবস্থা সব থেকে শোচনীয়।
সম্প্রতি সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করে নাইট ফ্র্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে এখানে ৮,৪৪৪টি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হলেও পরের ছ’মাসে তা বেড়ে হয় ১১,৮৯১টি। অথচ তারপর ২০১৫ সালের প্রথমার্ধেই ফের তা কমে হয় ৮,৩৭২টি। এই হিসেবে কলকাতার স্থান ষষ্ঠ, হায়দরাবাদ ও আমদাবাদের আগে। কিন্তু বিক্রির নিরিখে তালিকার শেষে। সে ক্ষেত্রে গত বছর দুই অর্ধে ছ’হাজারের কিছু বেশি ফ্ল্যাট বিক্রি হলেও, এ বছর তা কমে হয়েছে ৫,৮৮৮টি। এমনকী দামি অর্থাৎ ১.৫ কোটি টাকার বেশি দামের সম্পত্তির চাহিদাও কম। যদিও রাজ্য সরকার বারবারই আবাসন প্রকল্পে বিপুল লগ্নি এবং ভাল ব্যবসা হওয়ার দাবি করেছে।
সমীক্ষা বলছে, দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো শহরে পড়ে থাকা ফ্ল্যাটের সংখ্যা কলকাতার থেকে অনেক বেশি। কিন্তু বিক্রির গতি এই শহরে কম। ফলে কলকাতায় যে-সব প্রকল্প পড়ে রয়েছে, সেগুলি বিক্রি হতেই প্রায় চার বছর লেগে যাবে বলে ধারণা তাদের।
কেন আবাসন ব্যবসায় কলকাতা এতটা পিছিয়ে?
সংস্থাটির মুখ্য অর্থনীতিবিদ তথা জাতীয় অধিকর্তা স্যমন্তক দাস এবং পূর্বাঞ্চলীয় কর্তা অভিজিৎ দাস আর্থিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবকেই এই অবস্থার জন্য দায়ী করছেন। স্যমন্তকবাবু মনে করছেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে ইনফোসিস-সহ তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের আরও ব্যাপ্তি ঘটাতে হবে। প্রয়োজনে এই সব শিল্পকে বিশেষ আর্থিক অঞ্চলের (এসইজেড) তকমা দেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার এসইজেডের বিরোধী। এবং সেই জটেই আটকে রয়েছে ইনফোসিসের প্রকল্প।
পাশাপাশি, আবাসন শিল্পে সিন্ডিকেট-রাজ নিয়ে সরগরম রাজ্য। বিরোধীরা তো বটেই, শাসকদলের পক্ষ থেকেও অভিযোগ উঠেছে। এই সমস্যা যে-রয়েছে তা স্পষ্টই জানিয়েছেন অভিজিৎবাবু। তিনি বলেন, ‘‘এখানে নির্মাণের প্রতিটি ধাপেই এই সমস্যা রয়েছে। সমস্ত কিছুই সিন্ডিকেটের থেকে নিতে হয়। তারাই সব শর্ত স্থির করার চেষ্টা করে।’’ স্যমন্তকবাবু জানান, অন্য শহরেও কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা আছে, কিন্তু ততটা প্রকট নয়। যেমন, বহু জায়গায় ইউনিয়নের দাবি মেনে কাজের লোক নিতে হয়। কিন্তু না-নিলেও কাজ বন্ধ হয় না। সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া যায়।