—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নয়াদিল্লি, ১৮ জুন: আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের ফলে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেল-গ্যাসের আমদানিতে বাধা আসায় মোদী সরকার বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ করেছিল। যেমন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে রান্নার গ্যাসের জোগানে রাশ টানা হয়েছিল। গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ে লাগাম পরেছিল। বাড়ানো হয়েছিল পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাসের দাম। এ বার আমেরিকা-ইরান সংঘাতে ইতি টেনে সমঝোতা চুক্তি করায় হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ফের তেল-গ্যাসের আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার আশা দেখা দিয়েছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রক মনে করছে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ও তেল-গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত হলে তার পরেই এইসব জরুরি ব্যবস্থা তোলা হবে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে অশোধিত তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে এক সময় ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে চলে গিয়েছিল। বিধানসভা ভোটের পরে ধাপে ধাপে পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম লিটার প্রতি ৭.৫০ টাকা বেড়েছে। গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা। কিন্তু এখন অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের নীচে নেমেছে। এর ফলে তেলের দাম কমবে বলে আশা তৈরি হলেও, তাতে জল ঢেলে দিয়ে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী বলেছেন, এখনই তেলের দাম কমানো যাবে না। কারণ তাতে সময় লাগবে। অশোধিত তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতেও সময় লাগবে। যখন অশোধিত তেলের দাম বেড়েছিল, তার ধাক্কায় মোদী সরকার প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার লোকসান নিজেরঘাড়ে নিয়েছে।
ইরানের থেকে তেল কেনায় এত দিন যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে নিতে রাজি হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু রাশিয়া থেকে তেল কেনায় যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আর বাড়ানো হবে না। ফলে ভারতের সামনে ইরান থেকে তেল কেনার সুযোগ তৈরি হলেও রাশিয়া থেকে তেল কেনায় বাধা থেকেই যাচ্ছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘ভারত বিশ্বের প্রায় চল্লিশটি দেশ থেকে অশোধিত তেল আমদানি করে। দেশের মানুষের কাছে কী ভাবে সস্তায় জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া যায়, তা মাথায় রেখে বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সব দিক খতিয়ে দেখেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে