ছবি: সংগৃহীত।
চলতি বছরে সাধারণ করদাতারা যে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, তাতে নতুন আইন অনুযায়ী কর হিসাব করতে হবে। এই আর্থিক বছরে (২০২৬-’২৭) চালু হওয়া নতুন আইনে করদাতাদের উপর বোঝা কমাতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে অর্থ মন্ত্রক। নতুন আইনে সাধারণ ভাবে আয়করের হারে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। তবে একাধিক ফর্মের ক্ষেত্রে রদবদল ঘটানো হয়েছে। ফর্ম ভরার সময় ভুলত্রুটি এড়াতে সঠিক ফর্ম বেছে নিতে হবে করদাতাদের। এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
১৯৬১ সালের আয়কর আইনে চালু হওয়া বেশ কিছু ফর্মকে নতুন ফর্ম দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। করদাতাদের রিটার্ন দাখিল করার সময় সেগুলি ঠিক মতো জানা জরুরি। তা না হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রত্যেক বেতনভোগী করদাতার কাছে ফর্ম ১৬ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি এখন ফর্ম ১৩০ হয়েছে। ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয়পত্রের, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, বা স্থাবর সম্পত্তির মুনাফা থেকে ব্যাঙ্ক বা প্রতিষ্ঠান যে কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয় তার জন্য প্রয়োজন হয় ফর্ম ২৬এএস-এর। করদাতার আয়ের বিপরীতে কাটা ট্যাক্স বা টিডিএসের একটি বার্ষিক রেকর্ডের ফর্মটি নতুন সংস্কারের ফলে ফর্ম ১৬৮ হয়েছে।
বকেয়া বেতন, অগ্রিম বেতন, গ্র্যাচুইটি বা পেনশনের ওপর কর ছাড় দাবি করার একটি বাধ্যতামূলক অনলাইন ফর্ম ছিল ১০ই। সেটি এখন ফর্ম ৩৯ বলে পরিচিত হবে। ফর্ম ১৬এ বদলে গিয়ে ফর্ম ১৩১ হয়েছে। বার্ষিক মোট আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকে, তবে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টিডিএস এড়াতে ফর্ম ১৫জি এবং ১৫এইচ ফর্ম জমা দিতে হয়। সেই ফর্মটিও বদলে যাচ্ছে। ১২১ ফর্ম বলে পরিচিত হয়েছে এটি।
আয়কর আইনের ৮০ ধারা সাধারণ মানুষের হাতে কর থেকে ছাড় পাওয়ার অন্যতম অস্ত্র। কর্মচারী ভবিষ্যনিধি, জীবন বিমা, ইএলএসএস, গৃহঋণের মূল শোধ, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য স্ট্যাম্প ডিউটির খরচ, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম, সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম, ইউলিপ, পাঁচ বছরের কর বাঁচানোর ফিক্সড ডিপোজিট, ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ডের মতো বিনিয়োগে ছাড়া মেলে। এই ধারাটিও নতুন আয়কর আইনে ১২৩ ধারায় রূপান্তরিত হয়েছে।