শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। —ফাইল চিত্র।
টাটা-সহ গত ১৫ বছরে যে সব শিল্প সংস্থা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তাদের ফিরিয়ে আনা তাঁর প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য, বুধবার রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েই জানালেন তাপস রায়। সূত্রের দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে শিল্প দফতরের কাজের সম্পূর্ণ খতিয়ানও চেয়েছেন তিনি। আর তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর বার্তা, বাংলায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারে আলাদা করে জোর দেওয়া হবে। চেষ্টা করা হবে বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা এবং বিজ্ঞানচর্চাকে জনপ্রিয় করতে। সাধারণ মানুষের কাছে তাঁরা পৌঁছে দেবেন তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিকে। কল্যাণ বলেন, ‘‘শুধু কলকাতা নয়, আমরা চাই গোটা রাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি তালুক ছড়িয়ে দিতে। তাতে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।’’
বুধবার রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘‘টাটাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। সিঙ্গুর হোক কিংবা অন্য কোথাও। শুধু গাড়ি নয়, টাটার অনেক ক্ষেত্রে উপস্থিতি আছে। যে কোনওটিতেই ওরা আসতে পারে।’’ প্রয়োজনে তিনি নিজে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তাপস। বলেন, ‘‘রতন টাটা বেঁচে থাকলে তিনি নিজে গিয়েই কথা বলতেন। উল্লেখ্য, গত মাসে টাটাদের ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তাপস জানিয়েছেন, টাটার পাশাপাশি, গত ১৫ বছরে রাজ্য থেকে ৬৬৮৮টি সংস্থা চলে গিয়েছে। কেন তারা চলে গিয়েছে, তা দেখা প্রয়োজন। যদি টাটা এবং ওই সংস্থাগুলিকে ফিরিয়ে আনা যায়, তা হলে তা গোটা বিশ্বের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছবে।
পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীকে দুষে এ দিন তাপসের দাবি, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না শিল্প, না কৃষি— কিছুই করতে পারেননি। সিঙ্গুরে শিল্পও হল না, চাষবাসও হল না।’’ তৃণমূল জমানার বিশ্ব বঙ্গ শিল্প সম্মেলন (বিজিবিএস) নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘এই সম্মেলনে কী লগ্নি প্রস্তাব এসেছে, তার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এ বার জানা যাবে। এ নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা যেতে পারে।’’ সূত্রের খবর, কাজের প্রথম দিনই দফতরের কর্তাদের কাছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন তিনি। তাপস বলেন, ‘‘দ্রুত জমি নীতি, শিল্প নীতি, শিল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা বা ইনসেনটিভ নীতি এনে রাজ্যকে শিল্পের অনুকূল করাতেও জোর দেওয়া হবে।’’ বুধবার এ সব নিয়েও তিনি দফতরের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রাথমিক কথাবার্তা বলেছেন বলে খবর। শিল্প দফতর সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে তাপস আলাদা করে জানতে চেয়েছেন গত ১৫ বছরে কোন-কোন সংস্থা রাজ্যে লগ্নি করতে চেয়েও পারেনি। কারা রাজ্য ছেড়েছে। নির্দেশ দিয়েছেন বিজিবিএসে আসা লগ্নির প্রস্তাব, তার বাস্তবায়ন এবং প্রতিটি প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে