Investment in Volatile Market

সেনসেক্সের মহাপতনে গায়েব কয়েক লক্ষ কোটি! এটাই কি আরও বিনিয়োগের সেরা সময়? না কি অপেক্ষাতেই মিলবে সুফল?

ইরান যুদ্ধের জেরে শেয়ারবাজার রক্তাক্ত হওয়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের অঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে স্টকের থেকে মুখ ফেরানোই কি বুদ্ধিমানের কাজ? মিউচুয়াল ফান্ডের গ্রাহকদের কাছে আছে কী বিকল্প?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১২:২২
Share:

—প্রতীকী ছবি।

শেয়ার বাজারে শনির দশা! প্রায় প্রতি দিনই লাফিয়ে লাফিয়ে নামছে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) সূচক। মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই ছ’হাজার পয়েন্ট পড়ে ৭৬ হাজারে চলে এসেছে সেনসেক্স। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) অবস্থাও তথৈবচ। সাড়ে ২৩ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি গড়াগড়ি খাচ্ছে নিফটি-৫০। এ-হেন পরিস্থিতিতে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা হারিয়ে মাথায় হাত লগ্নিকারীদের। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন।

Advertisement

শেয়ার বাজার রক্তাক্ত হওয়ার নেপথ্যে দু’টি কারণকে দায়ী করেছেন দেশের তাবড় আর্থিক বিশ্লেষকেরা। তা হল পশ্চিম এশিয়ায় চলা ইরান বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের যুদ্ধ এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা। এর জেরে ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে বিদেশি লগ্নিকারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না। এ-হেন পরিস্থিতিতে স্টকে বিনিয়োগ কতটা যুক্তিযুক্তি? কী করবেন মিউচুয়াল ফান্ডের গ্রাহকরা?

এই ইস্যুতে আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে মুখ খুলেছেন ‘ম্যাকার্টিক ওয়ান’-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা বিজ়নেস পার্টনার হেড কুণাল আচার্য। তাঁর কথায়, ‘‘যুদ্ধের কারণে বাজারের যেটুকু রক্তক্ষরণ হওয়ার ছিল, সেটা হয়ে গিয়েছে। নতুন করে আর বেশি লোকসান হওয়ার নেই। ফলে খুচরো লগ্নিকারীরা তাঁদের মোট বিনিয়োগের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করে স্টক কিনতেই পারেন।’’

Advertisement

অন্য দিকে ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি আর্থিক বছরের (পড়ুন ২০২৫-’২৬) দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের (পড়ুন জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বেশি ভাল ফল করেছে অধিকাংশ ভারতীয় সংস্থা। মার্চের শেষে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ফলাফল প্রকাশিত হবে। সেখানে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসা ভাল হওয়ার প্রভাব যে বাজারের উপর পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

এ ব্যাপারে একটি প্রশ্নের উত্তরে কুণাল বলেছেন, ‘‘ইরান যুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস এবং খনিজ তেলের দাম বৃদ্ধি এখনও পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনীতির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারেনি। সেনসেক্স-নিফটির পতনও পুরোপুরি সাময়িক।’’ তবে আগামী কয়েক দিন দুই এক্সচেঞ্জ যে অস্থির থাকবে, তা নিশ্চিত করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এ দেশের তেল এবং গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির অধিকাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত। সেগুলির শেয়ারের দাম বেশ অনেকটাই কমে গিয়েছে। কিন্তু, তার পরেও জ্বালানি কোম্পানির স্টকে লগ্নি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য সংস্থাগুলির দিকে বেশি করে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

গত কয়েক বছরে মধ্যবিত্তদের একাংশের মধ্যে ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরের প্রথাগত লগ্নি থেকে কিছুটা সরে এসে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি লক্ষ করা গিয়েছে। বাজার ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় তাঁদের মধ্যেও আতঙ্ক কাজ করছে। যদিও কুণালের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে সঠিক লগ্নিতে লাভবান হতে পারেন গ্রাহক।

মিউচুয়াল ফান্ডে দু’ভাবে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। একটি হল লাম্পসাম এবং অপরটির নাম এসআইপি (সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান)। আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, বাজারের সূচক নিম্নমুখী থাকায় দু’টিতেই বেশি পরিমাণে স্টক কেনার সুযোগ পাবেন লগ্নিকারী। এতে আগামী দিনে ভাল রিটার্ন পেতে সুবিধা হবে তাঁর।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজার এবং মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বা ওই তহবিলে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement