বন্‌ধ না হয় হল, দামের কী হবে


তেলের চড়া দরের ক্ষোভের আগুনেই পুড়বে লঙ্কা। এই আশাতেই সোমবার দেশ জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু পেট্রল পাম্প থেকে বাজার, অফিস থেকে পাড়ার আড্ডা— দিনের শেষে সর্বত্র ঘুরপাক খেল প্রশ্ন, বন্‌ধ তো হল, কিন্তু দাম? দেশে পেট্রল, ডিজেলের দর নির্ভর করে মূলত দু’টি জিনিসের উপরে। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম এবং টাকার সাপেক্ষে ডলারের দর। হিসেব বলছে, দু’টির কোনওটিই এই মুহূর্তে কমার মেজাজে নেই। অশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। তার উৎপাদন বাড়ানোর কথাও হালে বলেনি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলি। উল্টে ইরানের উপরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই দেশ থেকে তার জোগান কমেছে। আর তার থেকেও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডলারের আক্রমণ।

৩১ অগস্ট থেকে এ পর্যন্ত এক দিন বাদে রোজই বেড়েছে মার্কিন মুদ্রার দর। সোমবারই এক লাফে তা চড়েছে ৭২ পয়সা। পৌঁছে গিয়েছে ৭২.৪৫ টাকায়। তার প্রভাব যে কত তীব্র, তা স্পষ্ট এই সময়ের মধ্যে পেট্রল, ডিজেলের দৈনিক দাম বৃদ্ধির অঙ্কেও। ৩১ অগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাম বাড়েনি (একই থেকেছে) মাত্র এক দিন। বাকি প্রতিদিন জ্বালানির দর চড়েছে। পেট্রল বেড়েছে দিনে ৪৭ পয়সা পর্যন্ত। ডিজেল আরও বেশি, ৫২ পয়সা। দিনে গড় বৃদ্ধিও চোখে পড়ার মতো।অনেকেই বলছেন, এর আগে শুধু অশোধিত তেলের দর চড়বার সময়ে এত দ্রুত গতিতে বাড়েনি পেট্রল, ডিজেলের দাম। এ বার যেন তাতে রকেটের গতি। ক্ষুব্ধ পাম্পমুখী সাধারণ মানুষও। তাঁদের অনেকে বলছেন, গুজরাত ও কর্নাটকে ভোটের আগে কিছু দিন থমকে দাঁড়িয়েছিল দাম। স্বস্তি পেতে তাই কি ভোটের জন্য অপেক্ষা ছাড়া গতি নেই? শোনা গিয়েছে, টাকার পতন রুখতে আরও আগ্রাসী নীতি নিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্র। ভাবা হচ্ছে দেশে ডলার আনতে অনাবাসীদের সামনে ফের সুযোগ খোলার কথাও। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনও মনে করেন, অর্থনীতির ভিত পোক্ত। কিন্তু এ সবের পরেও তেলের ছেঁকায় পকেট ফুটো হওয়ার জোগাড় আমজনতার। চিন্তা আরও, কারণ সুড়ঙ্গের শেষে আলোর দেখাও মিলছে না।ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তুষার সেনের আবার অভিযোগ, ‘‘বিক্রি প্রায় ২০% কমেছে। তেল কিনতে বাড়তি খরচও হচ্ছে। ছোট পাম্পের পক্ষে চট করে তা সহজ নয়।’’