সম্পাদক সমীপেষু

অশোক মিত্র এক জন সম্মাননীয় ব্যক্তি। বামফ্রন্টের আমলে বেশ কয়েক বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। অথচ, তাঁর লেখা (‘কী সৌভাগ্য, খোদ মহিলাটির বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারব’, সম্পাদকীয়, ১২-৪) পড়ে মনে হয়েছে সেটি যেন বামফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০১৬ ০০:১১
Share:

কেবল ঘৃণা?

Advertisement

অশোক মিত্র এক জন সম্মাননীয় ব্যক্তি। বামফ্রন্টের আমলে বেশ কয়েক বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। অথচ, তাঁর লেখা (‘কী সৌভাগ্য, খোদ মহিলাটির বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারব’, সম্পাদকীয়, ১২-৪) পড়ে মনে হয়েছে সেটি যেন বামফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার। মাঠে ঘাটে উদ্দাম ডেসিবেলে ব্যক্ত হওয়ার বদলে ভুল করে আপনাদের দৈনিকে ছাপা হয়েছে। আশ্চর্য লাগে যখন তিনি লেখেন, ‘বহু বছর ধরে ডাকঘরে জমা পড়া স্বল্প সঞ্চয়ে পশ্চিমবঙ্গ দেশে সর্বাগ্রগণ্য। এই সঞ্চয়ের দুই তৃতীয়াংশ রাজ্য সরকারের ঋণ হিসেবে প্রাপ্য, রাজ্য সরকার তাই এই প্রকল্পের ব্যাপ্তিসাধনে বরাবরই সচেষ্ট থেকেছে। দিদিমণির মুখ্যমন্ত্রীত্বে প্রথম দু’বছর অন্য ইতিহাস রচনা করল। রাজ্যে ডাকঘরে জমা পড়া অঙ্কের পরিমাণ অতি সংকুচিত...।’ এতে রাজ্য সরকারের কী ভূমিকা থাকতে পারে? ডাকঘরে স্বল্প সঞ্চয়ে রাখা আমানতের সুদ নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় সরকার। একটি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে ডাকঘরে মাসিক আয় প্রকল্পে সুদের হার ছিল ১৩ শতাংশ এবং টাকা রাখার ৬ বছরের মেয়াদের শেষে আসলের ১০ শতাংশ বোনাস হিসাবে পাওয়া যেত। ২০০৪ সালে সুদের হার কমে দাঁড়ায় ৮ শতাংশে। তার পর ২০১০ সালের অক্টোবরে সুদের হার ৮ শতাংশ থাকলেও বোনাস কমে গিয়ে ৫ শতাংশে দাঁড়ায়। সম্ভবত বছর দুয়েকের মধ্যে ৫ শতাংশ বোনাস প্রত্যাহার করা হলে অনেক আমানতকারী ডাকঘর থেকে টাকা তুলে নিয়ে ব্যাঙ্কে বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা রাখেন। এ ভাবে ২০১১ সাল (নতুন সরকারের কার্যকালের শুরু) থেকে ডাকঘরে স্বল্প সঞ্চয়ে সুদ কখনও এত আকর্ষণীয় হয়নি যাতে মানুষ সেখানে টাকা জমা রাখার উৎসাহ পায়।

লেখাটিতে যে মহিলাকে সততার প্রতীক হিসেবে বার বার অনেকটা আয়রনির মতো চিহ্নিত করা হয়েছে তিনি আসলে মানুষকে যে একটা কারণে আকর্ষণ করতে পেরেছেন তা হচ্ছে, বেশির ভাগ মানুষের মনে নিজেকে ‘আমি তোমাদেরই লোক’-এর প্রতীতি জাগাতে পেরেছেন। তিনি সৎ না অসৎ আমার জানা না থাকলেও এটুকু অন্তত বলতে পারি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভারতের আর কোনও নেতা এমন সরল, অনাড়ম্বর ও আন্তরিক ভাবে মিশতে পারেননি। মহিলা নেত্রীর সরকারের বিরুদ্ধে যে ধরনের সব অভিযোগের সঙ্গে অশোকবাবু পাঠককে নতুন করে অবহিত করার চেষ্টা করেছেন যেমন, আর্থিক দুরাচার, অকর্মণ্যতা, সমাজবিরোধীদের মদত দেওয়া, পুলিশকে নিষ্ক্রিয় রাখা, প্রশাসন জুড়ে জো হুজুর তালিমকারীদের লালনপালন করা, শিক্ষায় নৈরাজ্য, কৃষি ও শিল্পে ব্যর্থতা, ইত্যাদির সঙ্গে গত ৩৪ বছরের সরকারের মানুষদের যে কোনও পরিচয় ঘটেনি, এক গলা গঙ্গাজলে দাঁড়িয়ে বললেও তা কেউ বিশ্বাস করবে না। আসলে সে সময়ের সরকার এ সব কিছুর পথিকৃৎ ও পথপ্রদর্শক।

Advertisement

দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচার ও কপটতা এখন বেশির ভাগ মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। এই কুশ্রী চারিত্রিকতা থেকে মুক্ত শুদ্ধ মানসিকতার সাধনা খুবই কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। দুর্ভাগ্যের কথা, অশোকবাবুর মতো ব্যক্তিও দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠার শিক্ষা নিতে পারেন না। এখনও দলের বিরোধী নেত্রীকে কেবল ঘৃণাই করে যান।

মনোজ ঘোষ। কলকাতা-৬১

এ দৈন্য সমাজের

অশোক মিত্রের লেখা প্রবন্ধ প্রমাণ করে যে বাঙালির মননশীলতা আজও দেউলিয়া হয়ে যায়নি। তাঁর সুচিন্তিত লেখায় বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বরূপ, সুন্দর ভাবে প্রকাশিত করেছে।

এক জন সমাজবিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে কিছু সংযোজন করার জন্য এই পত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা তাঁর উত্থান কোনও ব্যক্তিবিশেষের রাজনৈতিক ও সমাজতাত্ত্বিক উত্থান বলে আমি মনে করি না।

বাঙালি মননের যে দৈন্য, গত পঞ্চাশ বছরে বাহিত হচ্ছে, যে বিলাসিতা, যে স্বার্থপরতার বেড়াজাল আমরা সযত্নে লালন করে চলেছি, ‘শতরঞ্চ কি খিলাড়ি’ সিনেমায় যে চিত্র শ্রদ্ধেয় সত্যজিৎ রায় আমাদের সামনে চিত্রায়িত করেছেন, সেই স্বার্থমগ্ন বাঙলি চিত্তের পরম্পরা বহন করছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একক নন, এক পরম্পরার ফসল।

শৈবাল সরকার। তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন