সম্পাদক সমীপেষু: সবাই দেখে ফেলেছেন


ভোটের ডিউটি থেকে ফিরে বাড়ি পৌঁছতে না পৌঁছতে সহকর্মী, বন্ধুদের মুহুর্মুহু ফোন। অনেকেরই বক্তব্য, কোনও রকমে প্রাণ হাতে নিয়ে ফিরলাম। আমিও এ বারে মনেপ্রাণে একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে ফিরেছি। বারো বছরের কর্মজীবন, অনেক বারই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রিসাইডিং অফিসারের ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। এই কর্তব্য করতে গিয়ে বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করতাম। একঘেয়ে কাজের মধ্যে অন্য অভিজ্ঞতা। অন্য রকম দায়িত্ব। কিন্তু এ বার সেটা হল না।

অন্য ভোটের তুলনায় পঞ্চায়েত ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা হলেই বুক দুরুদুরু করে বেশি। ত্রিস্তর ভোট, মানে তিন গুণ দায়িত্ব, কিন্তু সে তুলনায় নিরাপত্তা সবচেয়ে কম। এ এক উল্টো ঐকিক নিয়ম। ডিসিআরসি-তে আমার মতো অনেক মাস্টারমশাই, অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, প্রথমেই খোঁজ নিয়ে দেখছেন তাঁর বুথটি সেনসিটিভ কি না। যদি সেনসিটিভ বুথ না-হয়, তবে মুখে চওড়া হাসি। আমাদের সেক্টর অফিসারেরা অবশ্য বললেন, না না, সে রকম কিছু ব্যাপারই নেই। আমাদের দলে যিনি ফোর্থ পোলিং ছিলেন, তিনি ওই ব্লকের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরে কাজ করেন। চাপা স্বরে বললেন, তবে আমাদের সাবধানে থাকতে হবে, শুনলাম ওখানে খুব উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। একটি দল ও তাদের বিক্ষুব্ধ অংশের মধ্যে কনটেস্ট। এর আগেও ওখানে বোমাবাজি হয়েছে।

এমনিতেই তো কোথাও কোথাও এতটাই চূড়ান্ত অব্যবস্থা থাকে যে সেটা সামাল দিতে— নির্বাচন কমিশন যে টাকা দেয় পারিশ্রমিক হিসেবে, সেটা ছাড়াও— নিজের পকেট থেকে টাকা বেরিয়ে যায়। তার পর, ভোট চলাকালীন প্রতি মুহূর্তে নতুন সমস্যা। প্রিসাইডিং অফিসার মাত্রেই উৎকণ্ঠিত, কোনও পোলিং অফিসার কিছু ভুল করে ফেললেন কি না। বা, কেউ টয়লেটে গেলে তাঁর কাজটা সামাল দিতে হবে। তার উপর যদি বুথে ১২০০ ভোটার থাকে তো রাত দশটা-এগারোটা অবধি এক জায়গায় বসে টানা কাজ করে যাওয়া, দুপুরের চান-খাওয়া চুলোর দোরে। মজার ব্যাপার, এই নতুন জায়গায়, আমাকেই আমার খাবারের ব্যবস্থা করে নিতে হবে। সরকারি কোনও ব্যবস্থা আজও হল না, যে ঠিক দুপুর একটায় মধ্যাহ্নের আহার্য পৌঁছে দেওয়া হবে। সমস্ত কাগজপত্র রেডি করে, ব্যালট বাক্স রেডি করে ডিসিআরসি-তে পৌঁছেও শান্তি নেই, আপনার এই ফর্মটি কই, ওই ফর্মটি কই, এ বাবা এখানে মার্ক পড়েনি ঠিক করে, মেরে আনুন। আমি এখন ভাবছি, এত ভাবনাচিন্তা মাথায় নিয়ে ভোট করাতে গিয়ে এক জন প্রিসাইডিং অফিসার কী ভাবে তাঁর বুথ থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে সুইসাইড করতে যান! আর তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও কিছুটি জানতেই পারেন না!

ভোট থেকে ফিরেই যে যে জিজ্ঞেস করেছে কেমন ভোট হল, দেখিয়ে দিয়েছি মোবাইলে তোলা আমার বুথের বাইরের গ্রিলে পেটো পড়ার ছবি। পেটো দেখিনি কখনও। এ বার দেখলাম। এক জনকে পেটোর আঘাতে লুটিয়ে পড়তেও দেখলাম। দেখলাম প্রাণ বাঁচাতে বুথের বাইরে লাইনে থাকা পুরুষ-মহিলা কেমন প্রবল বেগে ঢুকে পড়েন বুথে। বাইরে বোম আর গোলাগুলির শব্দে ভয়ে চিৎকার, কান্নাকাটি করতে থাকেন। দেখলাম, কী ভাবে পুলিশ অফিসাররা প্রচুর পুলিশ নিয়েও এলাকা শান্ত করতে হিমশিম খান।

তাই রাজকুমারবাবুর মৃত্যুতে শিক্ষকেরা এক সঙ্গে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তাঁরা বুঝতে পারছেন, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে রাজকুমারের মতো অবস্থা হবে অনেকেরই। কিন্তু, প্রশাসন সে কথা শোনেও না, বুঝতেও চায় না। আর এখন তো সমাজে প্রচলিত ধারণা: মাস্টার মানেই টিউশন পড়িয়ে প্রচুর ইনকাম করে, মাস্টার মানেই প্রচুর মাইনে, মাস্টার মানেই কোনও খাটুনি নেই, আসো যাও মাইনে পাও। তাই শিক্ষকদের উপর আর সহানুভূতি বর্ষায় না। হয়তো তাই মিডিয়াকেও শিক্ষক পাবেন না পাশে।

তা হলে শিক্ষকেরা অকালমৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে পরের ভোটে রওনা হবেন, না রাষ্ট্রের কাছে যথাযথ নিরাপত্তা আদায় করে নেবেন? আজ রাজপথে অরাজনৈতিক মিছিলে শিক্ষক হাঁটতে চান। গ্রামে, মফস্সলে, শহরতলিতে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করতে চান। জানতে চান, তাঁর সহকর্মীর মৃত্যুর তদন্ত ঠিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে কি না।

কারণ, মাস্টারমশাই কিন্তু অনেক কিছুই দেখে ফেলেছেন।

অনুপম পাত্র

ডায়মন্ড হারবার

 

দুই নিয়ম

পূর্ব রেলের অন্তর্গত শিয়ালদহ ডিভিশনের একই শাখায় দু’রকম নিয়ম চালু। কৃষ্ণনগর-শিয়ালদহ/কলকাতা শাখার যে কোনও স্টেশনে যাতায়াতের সময় রিটার্ন টিকিটের সুবিধা মিললেও, কোনও অজ্ঞাত কারণে কৃষ্ণনগর-লালগোলা যাতায়াতের কোনও স্টেশনের ক্ষেত্রে রিটার্ন টিকিটের সুবিধা মেলে না।

সঞ্জীব রাহা

পাডিয়া মার্কেট, নদিয়া

 

নিয়মের ফেরে

কলকাতার ভবানীপুরে শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিট এবং ডিএল খান রোডের সংযোগস্থলে যানবাহনের ডান দিক ঘোরা বন্ধ হয়েছে। ফলে শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিট ধরে আসা গাড়িগুলি উত্তর দিকে ডিএল খান রোড ধরে যেতে পারছে না। তাদের বাধ্য করা হচ্ছে দক্ষিণ দিকে চিড়িয়াখানা বরাবর গিয়ে, মুখ ঘুরিয়ে উত্তর মুখে ডিএল খান রোডে ফিরে আসতে। এতে শুধু সময় ও জ্বালানির অপচয় হচ্ছে তা-ই নয়, গাড়িগুলোকে দু’বার করে ধনধান্য সেতু পারাপার করতে হচ্ছে, তাই অনর্থক ট্র্যাফিক জ্যামও বাড়ছে। খেয়াল রাখা দরকার, ডিএল খান রোডই হল উত্তর দিকে এজেসি বোস রোড ফ্লাইওভার বা রেড রোড যাওয়ার একমাত্র পথ।

প্রদীপকুমার নন্দন

কলকাতা-২৫

 

রাস্তা দখল

ঢাকুরিয়ার কলুপাড়ার মোড়ে একটি ছ’ফুট চও়ড়া সিমেন্টের গলিরাস্তা পুরোপুরি দখল করে বেশ কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক সকাল থেকে রাত্রি দুটো-তিনটে অবধি মদ, গাঁজা খায়। সাট্টার আসরও বসে। সেখানে একটি শিবমন্দিরও নির্মাণ করা হয়েছে। বেআইনি ভাবে হুকিং করে জ্বলে আলো, সাউন্ড বক্স বাজানো হয়। উঁচু গলায় সারা দিন অশ্রাব্য কথাবার্তা চলে। ওই রাস্তায় চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি কাগজ ও দুধের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাইকেল করে ওখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারি না, ব্যবসার ক্ষতি হয়। 

বাবু রায়

কলকাতা-৩১

 

পেনশন, চেকবই

বাড়ির কাছে একটি ব্যাঙ্কের চৌখালি শাখায় পেনশন পাই। আগে চেকের মাধ্যমে আমার ছেলের দ্বারা পেনশনের টাকা তুলতাম। আজ তিন মাস হল আমার চেকবই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই উইথড্রয়াল স্লিপের মাধ্যমে নিজেকে গিয়ে টাকা তুলতে হয়। চেকবই ইস্যুর কথা বলায়, ম্যানেজার বললেন, কোনও পেনশন-গ্রহীতাকে আর চেকবই দেওয়া হবে না। আমার বয়স ৭৯। কিছু দিন আগে একটি দুর্ঘটনায় বাঁ পা জখম হয়ে যায়। অতি কষ্টে লাঠির ওপর ভর দিয়ে চলাফেরা করি। আমার মতো আরও অনেক বয়স্ক ব্যক্তি আছেন, যাঁরা চেকবই না থাকার জন্য অতি কষ্টে নিজেরা টাকা তুলতে আসেন। পেনশন-প্রাপকদের কেন চেকবই দেওয়া হবে না?

পঙ্কজ কুমার মাইতি

মছলন্দপুর, পূর্ব মেদিনীপুর

 

অসম ভাড়া

কলেজ স্ট্রিট থেকে শিয়ালদহের দূরত্ব চারটে বাস স্টপ। এই রুটের অটো ভাড়া দশ টাকা। অথচ পাশের রাস্তা কলেজ স্ট্রিট বাটা থেকে ফুলবাগান ১১টা বাস স্টপ। তার অটো ভাড়া ন’টাকা।

পার্থপ্রতিম বিশ্বাস

কলকাতা-৯১

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়