Higher Studies in India

সম্পাদক সমীপেষু: ব্রাত্য উচ্চশিক্ষা

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে উন্নত পরিকাঠামো তৈরিতে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। বাস্তবে এর বিপরীত ব্যবস্থাপনা দেখা যাচ্ছে।

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

‘নেই ল্যাব, ছাত্রীদের বিজ্ঞান চর্চায় উৎসাহ-প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন’ (২-২) শীর্ষক ঋজু বসুর প্রতিবেদন প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা। এ বারের বাজেটে ছাত্রীদের পড়াশোনায় মানোন্নয়ন নিয়ে যে কয়েকটি প্রস্তাব কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী রেখেছেন তা গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। তবে, প্রতিবেদক ও দুর্গাপুর এনআইটি-র প্রাক্তন অধিকর্তা অনুপম বসুর সঙ্গে আমিও একমত যে, বিষয়টি ফলপ্রসূ হওয়া নিয়ে সংশয় থাকছেই। ছাত্রীদের জন্য জেলায় জেলায় হস্টেল ও বিদ্যালয়ে আবশ্যিক স্যানিটারি ন্যাপকিন থাকাটাই ছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটাবে না। বাহ্যিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের উন্নত পরিকাঠামো থাকা প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। শিক্ষা-বাজেটেও তার জন্য সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকা দরকার। হতাশার বিষয় হল, এ বারে বাজেট প্রস্তাবে তার উল্লেখ নেই। এমনিতেই স্কুলস্তরে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কমছে। তার উপরে ল্যাব না-থাকলে শিক্ষার্থীরা প্র্যাক্টিক্যালের কাজ করবে কোথায়? তাই, প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্মার্টবোর্ড, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং উন্নত আধুনিক পাঠ্যক্রম গড়ে তোলা সবচেয়ে আগে দরকার।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে উন্নত পরিকাঠামো তৈরিতে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। বাস্তবে এর বিপরীত ব্যবস্থাপনা দেখা যাচ্ছে। গত বাজেটে ‘পিএম-উষা’ প্রকল্পের বরাদ্দ করা টাকা খরচ হয়নি অর্ধেকের বেশি। দেশের সব উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে কি উন্নত ও আধুনিক পরিকাঠামো-যুক্ত করা হয়ে গিয়েছে? সে উত্তর এখনও অজানা। অথচ, প্রধান শিল্প করিডরগুলির গা-ঘেঁষে পাঁচটি বিদ্যালয় উপনগরী গড়ার কথা জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এই সুপরিকল্পিত অ্যাকাডেমিক জ়োন-এ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা বৃদ্ধি কেন্দ্র এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য থাকার জায়গা থাকবে। অথচ বহু রাজ্যেই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি ধুঁকছে আর্থিক ভারে। এই অবস্থায় সেগুলিকে পুনরুজ্জীবিত না-করে, নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবজ্ঞানের পরিচায়ক কি?

হেমন্ত গরাই, চন্দননগর, হুগলি

দিশাহীন বাজেট

এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেট কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এটি ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক দর্শন ও নীতিগত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। গত কয়েক বছরে পরিকাঠামো খাতে উচ্চ হারে বরাদ্দ, উৎপাদনমুখী শিল্পে প্রণোদনা এবং ডিজিটাল পরিষেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি বৃদ্ধিমুখী কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা স্পষ্ট। চলতি বাজেটেও রেল, সড়ক, বিদ্যুৎ ও নগর পরিকাঠামোয় বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে ‘পরিকাঠামো’ শব্দটির অর্থ যদি শুধুমাত্র কংক্রিট ও ইস্পাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা হলে মানবসম্পদ— স্বাস্থ্য ও শিক্ষায়— প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কতটা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। শিক্ষা খাতে ব্যয় মোট বাজেট ব্যয়ের ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি এবং স্বাস্থ্য খাতে তা ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ, যা একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যের তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত বলেই মনে হয়। এই দুই খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ছাড়া উৎপাদনশীলতা ও কাজের ভিত্তি মজবুত হওয়া কঠিন।

বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত চুক্তি অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) শিল্পের জন্য নতুন বাজার ও প্রযুক্তির সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ বাস্তবে রূপ নিতে হলে এমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ, প্রযুক্তি সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নে স্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন, যা বাজেটে আরও পরিষ্কার ভাবে প্রতিফলিত হতে পারত। রিয়াল এস্টেট ও পরিষেবা খাত কর্মসংস্থানের বড় উৎস হলেও এই ক্ষেত্রগুলির জন্য প্রত্যক্ষ নীতিগত দিশা তুলনামূলক ভাবে দুর্বল।

আর একটি মৌলিক প্রশ্ন হল, বাজেট বাস্তবায়ন। যে সব প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে, সেখানে যদি নির্ধারিত সময়ে বিনিয়োগ না-হয়, তবে উন্নয়নের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের পৃথক বাজেটের পাশাপাশি সম্মিলিত বা ত্রিস্তরীয় আর্থিক পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিকল্পনা হল, কেন্দ্রীয় বাজেটের নীতি, রাজ্য বাজেটের বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ প্রকল্পের সমন্বিত বরাদ্দ ও পরিকল্পনার সমন্বয়। এই ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, যাতে কোনও প্রকল্প শুধুমাত্র বরাদ্দে সীমাবদ্ধ না থেকে, বাস্তবে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন এবং আর্থিক লক্ষ্য অর্জিত হয়।

২০২৪ ও ২০২৫-এর বাজেট তুলনা করলে দেখা যায়, লক্ষ্য নির্ধারণে ধারাবাহিকতা থাকলেও অর্জনের মূল্যায়ন ও সংশোধনী নীতি এখনও অস্পষ্ট। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণই হওয়া উচিত বাজেট প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য, যাতে আর্থিক বৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায় এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য স্থাপন করা যায়।

অলোক কুমার মুখোপাধ্যায়, সোদপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

পেশাদারিত্ব চাই

এ বারের বাজেটে কমনওয়েলথ গেমস প্রস্তুতিতে বিশেষ বরাদ্দ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ক্রীড়াখাতে এ বারের বরাদ্দ ৪৪৭৯.৮৮ কোটি টাকা, যা গত বাজেটের তুলনায় ১১৩৩.৩৪ কোটি টাকা বেশি। ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’ চালু হচ্ছে, কোচেদের উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নত হবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিও। স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার বরাদ্দের পাশাপাশি বেড়েছে মাঝারি ও উচ্চ মানের অ্যাথলিটদের প্রশিক্ষণ বাবদ অর্থ বরাদ্দও। আসন্ন জুলাই-অগস্টে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ গেমসের আসরের কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি হওয়া অ্যাথলিটদের বরাদ্দ ২৮.০৫ কোটি থেকে বেড়ে ৫০ কোটিতে পৌঁছেছে। ২০১৪ সালে চালু হয় ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম’ (টপ) প্রকল্প। কিন্তু আপাতত সেই পদক্ষেপে আশানুরূপ ফল মেলেনি। তবুও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ২০৩২-এর ব্রিসবেন অলিম্পিক্সকে পাখির চোখ করা হয়েছে।

গ্রামেগঞ্জে যে সব প্রতিভা আছে, তাদের সঠিক পদ্ধতিতে সময়মতো বাছাই করে বিজ্ঞান ভিত্তিক পরিচর্যা করলে একটি মজবুত ভিত তৈরি করা সম্ভব। একশো চল্লিশ কোটি জনসংখ্যার দেশে যাঁরা কোচিং করান তৃণমূল স্তরে তাঁরা নিজেদের খেলোয়াড় জীবনের অপূর্ণ সাফল্যের স্বাদ কচিকাঁচা ছেলেমেয়েদের মধ্যে খুঁজে পেতে চান। তাঁদের ভরসা শুধু নিজেদের ক্রীড়া জীবনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু তাই দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পাওয়া সম্ভব কি না, প্রশ্ন থেকেই যায়। বড় মঞ্চে সাফল্য পেতে চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা। যেমন, ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’ পৌঁছে যাক একদম স্কুল স্তরে, তুলে আনুক অনূর্ধ্ব-১৪ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের। স্কুলছুটদের মধ্যে কারও প্রতিভা থাকলে তাদের এই ক্ষেত্রে যুক্ত করে ক্লাবভিত্তিক ব্লক-মহকুমা-জেলা স্তরের খেলাধুলা চালু করলে, একটা সুষ্ঠু পদ্ধতিতে দেশের খেলাধুলা এগোতে পারে। সিনিয়র অ্যাথলিটদের যেমন ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজ়ার’ দিতে বাইরে পাঠানো হয়, তেমনই দেশীয় যোগ্য কোচেদের বিদেশে পাঠিয়ে বা বিদেশি বিশেষজ্ঞ কোচ এনে পাঠ দেওয়ানো উচিত। দেশকে খেলাধুলায় স্বাবলম্বী করতে অর্থের যেমন প্রয়োজন, তেমনই ক্রীড়া প্রজ্ঞার উপরও জোর দিতে হবে। পেশাদারিত্ব ছাড়া কোনও ক্ষেত্রেই সাফল্য পাওয়া কঠিন।

সৌম্যেন্দ্র নাথ জানা, কলকাতা-১৫৪

লাভ কী

দেশপ্রাণ শাসমল রোডের উপরে পাতা ট্রামলাইন পার হতে গিয়ে বেশ কয়েক জন বাইকচালককে স্কিড করে রাস্তায় পড়ে যেতে দেখলাম গত কয়েক দিনে। বিষয়টি বেশ গুরুতর। ভাগ্য ভাল এঁদের কেউই গুরুতর আহত হননি। যদি এই রাস্তায় ট্রাম না-ই চলে, তা হলে এই লাইন পেতে রেখে লাভ কী?

প্রীতম বসু, কলকাতা-৩৮

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন