সম্পাদক সমীপেষু: মোদী নন, নেহরু

পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। নরেন্দ্র মোদী।

 জহর সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রীর সুভাষিত’ (১৮-৮) শীর্ষক প্রবন্ধ পড়ে কিছু বলার জন্য এই চিঠি। উনি লিখেছেন, এই প্রথম সংসদের কার্যবিবরণী থেকে প্রধানমন্ত্রীর কথা বাদ পড়ল। এটা ঠিক তথ্য নয়।  ১৯৫২ সাল। প্রথম লোকসভায় ডেপুটি স্পিকার অনন্তশয়নম আয়েঙ্গার সে দিন সভার কাজ পরিচালনা করছিলেন। জনসঙ্ঘ এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (হ্যাঁ, বিরোধী দলগুলির জোটের নাম) নেতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দিল্লি পুরসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বলছিলেন। ওই নির্বাচনে জনসঙ্ঘ চারটি আসন পেয়েছিল। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শ্যামাপ্রসাদ বলেন, কংগ্রেস মদ ও টাকার ফোয়ারা ছুটিয়ে দিয়েছিল, তা সত্ত্বেও খোদ রাজধানীতে চারটি আসনে পরাজিত হয়। জওহরলাল তখন কোনও ফাইল দেখছিলেন। এই বার তিনি উঠে দাঁড়িয়ে উত্তেজিত হয়ে ডেপুটি স্পিকার আয়েঙ্গারকে বললেন, ‘‘স্যর, মাননীয় সদস্য সংসদীয় রীতি ভঙ্গ করে এমন সব অভিযোগ করছেন যা রীতিমতো আপত্তিকর। উনি বলেছেন, কংগ্রেস মদ ও নারী, ওয়াইন অ্যান্ড উইমেন-এর ফোয়ারা ছুটিয়ে দিয়েছিল।’’ তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং শ্যামাপ্রসাদকে তাঁর উক্তি প্রত্যাহার করতে বলেন। শ্যামাপ্রসাদ বলেন, তিনি এই ধরনের কথা বলতে অভ্যস্ত নন এবং এ কথা তিনি বলেননি। কিন্তু জওহরলাল তা মানতে চাইলেন না। এ ছাড়া, কিছু অন্যায্য কথাও বলেন। বেশ কিছু ক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়। শ্যামাপ্রসাদ প্রস্তাব করেন, সংসদের কার্যবিবরণী দেখা হোক। নেহরু এ প্রস্তাব মেনে নিলেন। পরে ওই বিবরণীতে দেখা যায়, শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্যই ঠিক, নেহরু ভুল। নেহরু ভুল স্বীকার করে নেন এবং তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। আর সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তাঁর বক্তব্য বাদ দেওয়া হয়। সুতরাং, সংসদের কার্যবিবরণী থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাদ যাওয়ার ক্ষেত্রে, মোদী দ্বিতীয়; প্রথম জওহরলাল নেহরু, আমাদের দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

বিনয়ভূষণ দাশ

গোপজান, মুর্শিদাবাদ

সেইগুলো?

 ‘প্রধানমন্ত্রীর সুভাষিত’ পড়ে, কিছু উক্তি মনে করিয়ে দিতে চাই। বানতলা গণধর্ষণ ও গণহত্যার পর জ্যোতি বসু বলেছিলেন: এমন তো কতই হয়। ইন্দিরা গাঁধী হত্যার পর শিখ-নিধনের সময় রাজীব গাঁধী বলেছিলেন: একটা মহীরুহ উপড়ে গেলে অনেক ছোট গাছও চাপা পড়ে। উনিই তৎকালীন বিদেশসচিবের সামনেই বলেছিলেন: আপনারা শীঘ্রই নতুন বিদেশসচিব দেখতে পাবেন। তাঁরই ছেলে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি থাকাকালীন সংসদে নিজের দলের পেশ করা বিল সম্বন্ধে বলেছিলেন: ওই বিল ছিঁড়ে ফেলে দিন। সেই সুভাষিতগুলো জহরবাবুর মনে আছে কি?

প্রকাশ কান্তি থান্দার

কলকাতা–৫

অচলায়তন

এ এক ঐতিহাসিক জট। হাজার হাজার বছর গায়ে গায়ে বাস করার পরেও এ এমন এক অসূয়া, যাকে আমরা আজও বশ করতে পারলাম না। তবে এই সমস্যা স্বল্পশিক্ষিত গ্রামের থেকে, অধিক শিক্ষিত শহরে অনেক বেশি। সাধারণত এ দেশের মুসলিমদের সম্পর্কে সব চেয়ে বড় অভিযোগ, তাঁরা সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। আসলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বরং তাঁরা বিচ্ছিন্ন থাকতে বাধ্য হন। সমাজের মূলস্রোতে পুরোপুরি শামিল হতে গেলে তো এক রকমের সুষম সামাজিক বিন্যাস চাই, অনাহূত রবাহূত হয়ে তো তা সম্ভব নয়। জগতের আনন্দযজ্ঞে যখন সবার নিমন্ত্রণ হবে তখনই তো ঘটবে উত্তরণ। মুসলিমরা তো কোনও অপার্থিব অতিপ্রাকৃত অস্তিত্ব নয় যে তার সঙ্গে সখ্য হবে না।

আরও একটা মজার ব্যাপার হল, অধিকাংশ সময় গল্পগুজব, ভাবের আদানপ্রদানের শেষে পরিচিতি বিনিময়ের সময় যখন মুসলিম নাম উঠে আসে, একটা বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়, স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্য বেরিয়ে আসে: ‘দেখে তো মনে হয় না’। ঠিক কী দেখলে মুসলিম মনে হয়! আসলে সিমাই, বিরিয়ানি, ইফতার, গোমাংস, এক গন্ডা বিয়ে আর আরবি-উর্দু মাতৃভাষা; এই অভিধার বাইরে তার অবস্থান নিয়ে বৃহত্তর সমাজের কোনও মাথাব্যথা নেই। নিরুত্তাপ এই অচলায়তনকেই হাত বাড়াতে হবে।

সেখ হাফীজুর রহমান

দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান

ওই তারিখ

 দেবাশিস ভট্টাচার্যের অসমের নাগরিক পঞ্জি বিষয়ক প্রতিবেদনটিতে (১০-৮) কিছু তথ্যগত ত্রুটি চোখে পড়ল। উনি লিখেছেন, ‘‘বৈধ বসবাসকারী তাঁরাই যাঁরা ১৯৭১-এর ২৪ অগস্টের আগে এই দেশে চলে এসেছেন। তারিখটি বেছে নেওয়ার কারণ, ২৪ অগস্ট মধ্যরাত্রের পরে ভারত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সেনা পাঠিয়েছিল।’’ কিন্তু ১৯৭১ সালের আনন্দবাজার পত্রিকা এবং আকাশবাণী কলকাতার নিয়মিত পাঠক ও শ্রোতা হওয়ার জন্য জানি, ২৪ মার্চ, ১৯৭১-এর মধ্যরাত্রে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি সেনারা গ্রেফতার করার পূর্ব মুহূর্তে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের কথা ঘোষণা করেন, তাই ২৫ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। তাই নাগরিক পঞ্জিতে ২৪ অগস্ট নয়, ২৪ মার্চকে ভিত্তি ধরা হয়েছে৷

সেই বছর ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে বিমান হানা করার সঙ্গে সঙ্গে ভারত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সেনা পাঠিয়েছিল এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্য সারেন্ডার করেছিল। তাই ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবস বলা হয়। ২৪ অগস্ট ভারত সেনা পাঠিয়েছিল, এ রকম কোনও খবর তখন প্রচারিত হয়নি।

এই প্রসঙ্গে বলি, পঞ্চাশ-ষাটের দশকে উদ্বাস্তু ভিক্ষাজীবীরা গান গাইতেন, ‘‘দ্যাশ ছাড়িলাম শেষে, জিন্না গান্ধীর দোষে।’’ তাই দেশভাগের পরে যাঁরা ভারতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতি ভারত রাষ্ট্রের নৈতিক দায় আছে। কিন্তু ২৪ মার্চ, ১৯৭১-এর পরে যাঁরা এ দেশে এসেছেন তাঁরা তো পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধের শিকার। তাঁদের প্রতি ভারতের কোনও নৈতিক দায় নেই। সেই জন্য তাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী নন ধরে নিয়ে ওই তারিখটিকে নাগরিক পঞ্জির ভিত্তি করা হয়েছে।

চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা-১৫০

ঘোলা জল

অসমে বিজেপি এনআরসি ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রচেষ্টার প্রয়াস চালাচ্ছে এ কথা সত্যি ধরে নিয়েও আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত, যাতে পুরো এনআরসি ব্যবস্থাকে তুলে না দেওয়া হয়। তা হলে এটা স্নানের জলের সঙ্গে শিশুটিকেও ফেলে দেওয়ার মতো ব্যাপার হবে। আমাদের রাজ্যের শাসক দল সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে মরিয়া, তার জন্য যদি খাগড়াগড় কাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে, কুছ পরোয়া নেই! এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যে তিমিরে সেই তিমিরে থাকুক না, ভোট পেলেই হল। শক হূন দল পাঠান মোগল এক দেহে হল লীন যখন ঘটেছিল, তখন ভারত বলে স্বাধীন সার্বভৌম কোনও রাষ্ট্র ছিল না। পৃথিবীর কোনও দেশই এখন ধর্মশালা নয়। আমাদের শুধু দেখতে হবে, সমস্ত ব্যবস্থা যাতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভাবে হয়। অসমে যা ঘটছে, তা চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল। আর এই ঘোলা জলে ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে রাজনৈতিক দলেরা নেমে পড়েছে।

রাজকুমার রায়চৌধুরী

কলকাতা-৭৫

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

ভ্রম সংশোধন

 ‘সেনকোর শেয়ার’ (ব্যবসা, ২৩-৮) শীর্ষক খবরে ৬০০ কোটি টাকা পড়তে হবে। ৬,০০০ কোটি টাকা নয়। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।