সম্পাদক সমীপেষু: কৃষিকাজ জানো না


সফিকুল ইসলামের চিঠি ‘আগাছা-নাশক’ (২১-৮) পড়ে জানতে পারলাম, উনি এক জন ‘কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ কর্মী’ (এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি এক্সটেনশন ওয়ার্কার)। স্বাধীন ভারতের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হিসাবে ‘কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছিল, যেখানে নিযুক্ত করা হয়েছিল ‘ভিলেজ লেভেল ওয়ার্কার’, যাঁদের ‘মাল্টিপারপাস ওয়ার্কার’ বা ‘এক্সটেনশন ওয়ার্কার’ বলা হত। এঁদের মনে করা হত "teacher, guide, friend and philosopher to the villager."

চিনের ইউনান রাজত্বকাল থেকে শুরু করলে, এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশনের ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো। আধুনিক ‘এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন’ শুরু হয়েছিল ‘ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশন’ হিসাবে। ১৮৬৭ সালে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির ট্রিনিটি কলেজের ফেলো জেমস স্টুয়ার্ট প্রথম বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান ও আবিষ্কৃত ফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা। ক্রমে ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশন এক আন্দোলনে পরিণত হল। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি ১৮৭৩ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘এক্সটেনশন এডুকেশন’ কথাটি গ্রহণ করে। আমেরিকায় ‘এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন’ শুরু হয় ‘ল্যান্ড গ্র্যান্ট কলেজ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ক্রমে এটি ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতে।

“Helping people help themselves shape their behaviour in desirable direction” (মানুষদের সাহায্য করা যাতে তারা নিজেরা নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে তাদের ‘ব্যবহার’-এ বাঞ্ছিত পরিবর্তন আনার জন্য) হল এক্সটেনশন এডুকেশনের দর্শন। ‘ব্যবহার’ বলতে মূলত জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা বোঝায়। এই দর্শন এবং ‘Learning by doing’ (নিজে করে শেখা) আর ‘Seeing is believing’ (নিজের চোখে দেখে বিশ্বাস করা): এই নীতিই হল এক্সটেনশন এডুকেশনের ভিত্তি।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এক্সটেনশন এডুকেশনের নীতি কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে আমেরিকা কৃষিতে প্রভূত উন্নতি করল। যে হেতু গবেষণালব্ধ আধুনিক জ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ করে কৃষির উন্নতি সম্ভব হয়েছিল তাই 'transfer of technology' (প্রযুক্তিবিদ্যার হস্তান্তর) বা 'diffusion of innovation' হয়ে উঠল এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশনের সমার্থক। “কৃষকদের বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ আগাছা-নাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া” তার এক উদাহরণ।

ভারতে এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ১৯৬০-৭০ সালে কৃষিতে ‘সবুজ বিপ্লব’ ঘটাতে সাহায্য করেছিল। ধান-গমের উচ্চ ফলনশীল বীজ, সেচের জন্য বৈদ্যুতিক শক্তির সাহায্যে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক-আগাছানাশক প্রয়োগ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি দ্বারা চালিত যন্ত্রশক্তির ব্যবহার সবুজ বিপ্লব নিশ্চিত করেছিল, কিন্তু পরিবেশ দূষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি, স্বাস্থ্যহানি ও আর্থ-সামাজিক বৈষম্যও সৃষ্টি করেছিল।

আমেরিকান রসায়ন-বিজ্ঞানী রাচেল কারসন ১৯৬২ সালে ‘সাইলেন্ট স্প্রিং’ নামে একটি বই লিখেছিলেন, যাতে তিনি পরিবেশের উপর কৃষি-রাসায়নিক (agro-chemical)-এর কুপ্রভাবের কথা প্রথম বলেছিলেন, যার ভিত্তিতে আমেরিকায় পরিবেশ আন্দোলন শুরু হয় বিশ্বে প্রথম বার। এর পরই সারা পৃথিবীতে আধুনিক রাসায়নিক কৃষিকাজের কুফল সম্বন্ধে সচেতনতা শুরু হয়। এই আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সামগ্রীর প্রস্তুতকারকদের মধ্যে মনসান্টো অন্যতম।

আশ্চর্যের বিষয়, গোটা পৃথিবী যখন কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহারের কুফল সম্বন্ধে সচেতন হচ্ছিল, ভারতে তখন ওই রাসায়নিক কৃষিকাজ শুরু হচ্ছিল (১৯৬৪-৬৫)। এক্সটেনশন এডুকেশনের সাহায্য কৃষকদের ‘নতুন ও উন্নত’ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষবাস শেখানো হচ্ছিল। যার ফল হয়েছে অতি খারাপ, অপূরণীয় ও সুদূরপ্রসারী। সব কিছু আবার আগের মতো করার উদ্দেশ্যে এখন শুরু হয়েছে জৈবিক কৃষি আন্দোলন। সে এক অন্য উপাখ্যান।

এই ভাবে উন্নয়নের নামে কৃষকদের উপর নতুন নতুন কৃষি নীতি চাপিয়ে দিয়ে কৃষি প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার ও প্রয়োগ পরিবেশ ও সমাজে ডেকে আনছে অবাঞ্ছিত পরিবর্তন। সর্বোপরি, এক্সটেনশন ওয়ার্কারের প্রকৃত কাজ, 'helping people help themselves'— এর কথা কেউ মনে রাখেনি।

সমরেশ কুমার দাস সেন্ট্রাল এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, আইজ়ল, মিজ়োরাম

 

বেহাল রাস্তা

মোমিনপুর মর্গে দিনে গড়ে প্রায় ৩০-৩৫টি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। মর্গের সামনের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। পথ-দুর্ঘটনা প্রায়ই হয়। মর্গটি জেলা প্রশাসনের অধীনে। রাজ্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অবিলম্বে রাস্তার উন্নতি করা হোক।

বিশ্বরঞ্জন সরকার, হাওড়া

 

বিল বৈষম্য

দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিল প্রতি মাসে তৈরি হয়। কিন্তু উত্তরবঙ্গের গ্রাহকদের বিল একই সঙ্গে ‘তিন মাস’-এর তৈরি হয় কেন?

চন্দন নাগ, শিলিগুড়ি

 

ডেঙ্গি আতঙ্ক

‘জীর্ণ বাড়িতে ডেঙ্গি-আতঙ্ক’ (১৭-৮) প্রতিবেদনটির সমান আতঙ্কের ভাগীদার হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে চাই। পুরসভার ১০০ নং ওয়ার্ডের নাকতলা অঞ্চলের আমতলা রিকশা স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ছাদটি প্রচুর আবর্জনা, লতাগুল্ম, আগাছায় পরিপূর্ণ। পরিবাহী নালাগুলি বন্ধ থাকার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই আবর্জনাপূর্ণ জমা জল ডেঙ্গি মশার সূতিকাগার হিসেবে আদর্শ। পাশাপাশি দু’টি বাড়ির অন্তর্বর্তী গলির অবস্থাও তথৈবচ। বাড়ির অভ্যন্তরে বৃষ্টির ছাদ-চোয়া জমা জলে মশার ব্যাপক ও নিশ্চিন্ত বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা।

সমগ্র বিষয়টি মাননীয় মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য)-এর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে তাঁরই পরামর্শে গত ২৭ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে ডেঙ্গি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাই। ১৬ মে ২০১৭ তারিখে সংশ্লিষ্ট দফতরের একটি দল বাড়িটি পরিদর্শন করে। কিন্তু কাজ না হওয়ায় ১ অগস্ট ২০১৭ তারিখে নিজে আঞ্চলিক ওয়ার্ড অফিসের সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান জনৈক ডাক্তারবাবুর সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমার এই ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পর দিন নিজে দল নিয়ে এসে পরিদর্শন করে যান ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তিনি আগামী সভায় এটা অবশ্যই তুলবেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। আতঙ্কে নিজের সমস্ত জানালায় নেট লাগিয়ে দিই।

এ বছর আবার মহা উদ্যোগে পতঙ্গ-নিরোধক ও জঞ্জাল অপসারণ উভয় দফতরের লোকেরা হইহই করে দেখে যান এবং ছবিও তোলেন। জানান এ এক ভয়ঙ্কর বিপদ, আমাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারকে ফোন করার পরামর্শও দেন। পর দিন আমি ফোন করি। কিন্তু অদ্যাবধি কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি।

মনীষীকুমার উকিল, কলকাতা-৪৭

 

গণনাযন্ত্র

গণনাযন্ত্রের প্রতি অটল বিশ্বাস থাকায় বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। গত ১ অগস্ট পেনশন তুলতে গিয়েছিলাম বড়িশার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে। অন্যান্য নোটের সঙ্গে একটি একশো টাকার বান্ডিল দেওয়া হল। দেওয়ার আগে গণনাযন্ত্রে দেখলাম সংখ্যাটি ১০০-এ এসে পৌঁছল। সরল বিশ্বাসে এবং তাড়া থাকায় বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে অটুট বান্ডিল বার বার গুণে দেখি ১০০ নয়, ৯২টা নোট আছে।

গোবিন্দ মতিলাল, কলকাতা-৮

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।