আমি ক্যানসার আক্রান্ত। বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ‘বিমা করলেও সুরক্ষা কোথায়’ (৮-১২) শীর্ষক নীলাঞ্জন দে-র প্রবন্ধটি পড়ে বিমা ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা জানানো প্রয়োজন বলে মনে হল। ২০২০ সালে আমি একটি জনপ্রিয় বেসরকারি বিমা সংস্থা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার বিমা কিনে ভবিষ্যতের চিকিৎসার খরচের জন্য অনেকটা নিশ্চিন্ত ছিলাম। প্রতি বছর প্রিমিয়াম দিয়েছি ২১ হাজার টাকা। গত বছর থেকে প্রিমিয়াম হয়েছে ২৩ হাজার টাকা। বিমা কেনার সময় এজেন্টের মুখে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু গত বছর মার্চে যখন চিকিৎসা আরম্ভ হল, তখন বিমা কোম্পানির আসল নিয়মকানুন জানতে পারলাম। প্রথম শর্ত হল, যে-হেতু আমি এক জন প্রবীণ নাগরিক এবং ক্যানসার আক্রান্ত, তাই আমাকে আড়াই লক্ষ টাকার বেশি দেওয়া হবে না। রোবোটিক সার্জারির ক্ষেত্রে কোনও টাকাই দেওয়া হবে না। রেডিয়েশন, কেমোথেরাপির ক্ষেত্রেও সংস্থা মর্জিমতো টাকা দিয়েছে। আসলে, টাকা দেওয়ার সময় সংস্থার স্বার্থ আগে দেখা হয়। পরে জানলাম, অন্যান্য রোগীও অন্যান্য বিমা সংস্থার কাছে একই ভাবে প্রতারিত হয়েছেন। তাই, যত টাকারই স্বাস্থ্যবিমা করানো হোক না কেন, ভবিষ্যতের জন্য নিশ্চিন্ত থাকা যায় না।
দীপা বাগচী, ব্যারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগনা
সু-অভ্যাস
‘উত্তরপ্রদেশের স্কুলে রোজ সংবাদপত্র পাঠ আবশ্যিক’ (২৮-১২) খুবই আশাব্যঞ্জক একটি খবর। মোবাইলের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া আজ যখন অধিকাংশ পড়ুয়ার লেখাপড়ায় ও সৃজনশীলতায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, তখন তাদের মোবাইল থেকে দৃষ্টি ফেরাতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সাধুবাদযোগ্য। বলা হয়েছে, এর জন্য রোজ প্রার্থনার সময় বাড়িয়ে ১০ মিনিট করা হয়েছে। ওই সময় পড়ুয়াদের সংবাদপত্র পাঠের অভ্যাস রপ্ত করানো হবে। স্কুলে নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ করার অভ্যাস রপ্ত হলে তাদের মধ্যে পরবর্তী জীবনেও সেই অভ্যাস থেকে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশ-বিদেশে প্রতি দিন ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবে পড়ুয়ারা, যা তাদের ভবিষ্যতে চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কাজে আসবে। আধুনিক বিশ্বের নানা ঘটনা সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা তৈরি হবে অল্প বয়স থেকেই। সবচেয়ে বড় কথা, পড়ুয়াদের মধ্যে একটা ভাল অভ্যাস গড়ে ওঠায়, মোবাইলের প্রতি তাদের মোহ কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে। উত্তরপ্রদেশ এমন একটি প্রগতিশীল সিদ্ধান্ত নিতে পারলে, আমাদের পশ্চিমবঙ্গ কেন সেই পথে হাঁটবে না?
অতীশচন্দ্র ভাওয়াল, কোন্নগর, হুগলি
অসমাপ্ত কার্যক্রম
‘রাস্তা খুঁড়লে দ্রুত ফেরাতে হবে শ্রী, কঠোর পুর প্রশাসন’ (২২-১২) শীর্ষক সংবাদে পুর প্রশাসনের কঠোর বার্তাতে নতুন কিছু মনে হল না। ‘দ্রুত’ শব্দটিই অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্ট, যা কোনও সময়সীমা নির্দিষ্ট করে না। দ্রুত কাজ সারা মানে যত শীঘ্র সম্ভব কাজ সম্পূর্ণ হওয়া। কিন্তু সেটাই সারা বছর গড়িয়ে গেলে নির্দেশ দেওয়াটাই সার হয়। এই মুহূর্তে কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন রাস্তায় খোঁড়ার চিহ্ন স্পষ্ট। প্রয়োজনে কাজ হবে, তার তৎক্ষণাৎ মেরামত হবে না কেন? এ সব দেখার দায়িত্ব তো পুরসভারই। অথচ, তা হচ্ছে কই? পুরসভার জলের লাইনে নিয়মিত ফাটল ধরছে, বইছে জলের স্রোত। জলের পাইপ বসানো, বিদ্যুতের কাজ, রাস্তা সম্প্রসারণ— বিনা সমন্বয়ে যে যার কাজ করে যাচ্ছে আর জনগণ ভুগছে নিত্যকার বিড়ম্বনায়।
সম্প্রতি দিঘা গিয়েছিলাম। দিঘা ঢোকার দেড় কিলোমিটার আগে অলঙ্কারপুর থেকে বিশ্ব বাংলা গেট পেরিয়ে ফোরশোর রোডে বাঁ-দিকে সৈকতাবাসে যাওয়ার মুখ পর্যন্ত রাস্তা পুরোটাই ভাঙাচোরা। ভারী গাড়ি গেলে তো রক্ষে নেই, ধুলোয় ঢাকে মুখ। ও-দিকে নতুন জগন্নাথ ধামের নামে দিঘায় পর্যটক, দর্শনার্থী বেড়েছে প্রচুর, পরিবহণের সংখ্যাও সেই অনুপাতে বেড়েছে। ফলে দিঘার রূপ দেখতে এসে শহরে ঢোকার মুখে স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে অধিকাংশেরই। অথচ, সে-দিকে না স্থানীয় প্রশাসনের নজর আছে, না রাজ্য প্রশাসনের। পুরসভা, দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ ও পূর্ত দফতর, টুকরো টুকরো কাজগুলো সময়মতো করে ফেললে দুর্ভোগ কমে জনগণের। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সৌম্যেন্দ্র নাথ জানা, কলকাতা-১৫৪
নিয়মের জালে
বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য সম্প্রতি দেশ জুড়ে চালু হয়েছে ‘ইউনিক ডিজ়এবিলিটি আইডেন্টিটি কার্ড’। এই কার্ডের জন্য অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক। অনলাইনে আবেদনের জন্য অন্যান্য নথির সঙ্গে আধার-কার্ডও আপলোড করা বাধ্যতামূলক হয়েছে। কিন্তু বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের অনেকের চোখ না-থাকার কারণে অথবা ‘নাইস্ট্যাগমাস’ জাতীয় অসুখের জেরে চোখ স্থির না হওয়ার ফলে চোখের বায়োমেট্রিক সম্ভব হচ্ছে না। আবার বহু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর হাতের আঙুল না থাকায় বায়োমেট্রিকের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়াও জন্মগত ‘ডিফর্মিটি’ থাকায় সঠিক বায়োমেট্রিক নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাজার হাজার বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষ ‘ইউনিক ডিজ়এবিলিটি আইডেন্টিটি কার্ড’ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভারতের মহামান্য সর্বোচ্চ আদালত আধার কার্ড ‘ঐচ্ছিক’ হিসাবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের শংসাপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে ভারত সরকার আধার কার্ড আবশ্যিক ঘোষণা করার ফলে এই মানুষগুলি এবং তাঁদের অভিভাবকরা চরম সঙ্কটে পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানে কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাচ্ছি।
অজয় দাস, উলুবেড়িয়া, হাওড়া
প্রতারণা
গত পনেরো বছর ধরে বিশেষ প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় স্পিড পোস্ট বা রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে আসছি। স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পাঠালে প্রুফ অব ডেলিভারি (পিওডি) যুক্ত করি। অন্য দিকে, রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমে পাঠালে অ্যাকনলেজমেন্ট যুক্ত করতাম। এ বছরের অক্টোবর মাস থেকে রেজিস্টার্ড পোস্ট বন্ধ হয়েছে। এখন শুধু স্পিড পোস্টই ভরসা।
কোনও চিঠির সঙ্গে পিওডি যুক্ত করলে প্রেরককে অতিরিক্ত দশ টাকা মাসুল গুনতে হয়— পিওডি প্রাপকের ঠিকানা থেকে প্রেরকের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডাক বিভাগ এই দশ টাকা মাসুল নেয়। প্রসঙ্গত, পিওডি যখন প্রাপকের ঠিকানা থেকে প্রেরকের ঠিকানায় পাঠানো হয়, তখন তা সাধারণ চিঠি বলে গণ্য করা হয়। ফলে স্পিড পোস্ট প্রেরকের থেকে প্রাপকের কাছে পৌঁছতে যে সময় লাগে, পিওডি প্রাপকের থেকে প্রেরকের কাছে পৌঁছতে তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে।
সমস্যা হল, চিঠির সঙ্গে অতিরিক্ত দশ টাকা খরচ করে পিওডি যুক্ত করলেও বেশির ভাগ সময়ে তা আর আমার কাছে ফেরত আসে না। প্রযুক্তির মাধ্যমে কনসাইনমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে আমরা এখন আমাদের পাঠানো স্পিড পোস্টের হালহকিকত জানতে পারি। কিন্তু অনলাইনে পাওয়া সেই তথ্যে প্রেরক ও প্রাপকের শুধুমাত্র পিনকোডের উল্লেখ থাকে। সে ক্ষেত্রে অনলাইনে পাওয়া তথ্যে যদি অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে চিঠির মতো প্রেরক ও প্রাপকের সম্পূর্ণ নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা থাকে, তা হলে প্রেরকের আর পিওডি-র প্রয়োজনই পড়বে না। বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। যত দিন না তা হচ্ছে, তত দিন পিওডি প্রেরকের কাছে পাঠানো নিশ্চিত করা হোক। পিওডি-র জন্য অতিরিক্ত দশ টাকা মাসুল নিয়ে তা প্রেরকের কাছে না পৌঁছে দেওয়াটা প্রতারণা নয় কি?
ইন্দ্রনীল ঘোষ, লিলুয়া, হাওড়া
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে