সম্পাদক সমীপেষু: অম্বেডকর এবং


‘অম্বেডকর বিষয়ে কিছু’ (২৫-৪) শীর্ষক পত্র পড়ে কিছু বলতে চাই। বর্তমানে ড. বি আর অম্বেডকর আমাদের সংবিধানের একমাত্র রচয়িতা বলে গণ্য হচ্ছেন। যেন তিনি একাই নিজের হাতে সমগ্র সংবিধান রচনা করেছেন। কিন্তু তিনি ছিলেন সংবিধানের খসড়া কমিটির সভাপতি। এই কমিটিতে আরও ছ’জন সদস্য ছিলেন— কে এস মুন্সি, টি টি কৃষ্ণমাচারি, মহ. সাদুল্লা, আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আয়ার, এন মাধব রাও ও ডি পি খৈতান। খসড়া কমিটির সভাপতি ও আইনমন্ত্রী— একই সঙ্গে এই দুই পদে থাকায় স্বভাবতই অম্বেডকরের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণই ছিল, কিন্তু বাকিদের ভূমিকাও নগণ্য নয়। মূলত, সংবিধান হল একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল।

পত্রলেখক সোমনাথ গোস্বামী জ্যোতিবা ফুলের কথা বলেছেন। জ্যোতিবা ফুলেকে অম্বেডকর দেখেননি, বিভিন্ন রচনায় তিনি তাঁকে তাঁর গুরু বলে মেনেছেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে আর এক জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা দরকার। তিনি বডোদরার মহারাজা সয়াজিরাও গায়কোয়াড়। অর্থকষ্টে বিব্রত কিশোর অম্বেডকরকে যিনি মাসিক ৫০ টাকা বৃত্তির ব্যবস্থা করে আশ্বাস দিয়েছিলেন: যাও, ভাল করে লেখাপড়া করো। আমি নিশ্চয়ই তোমায় আরও সাহায্য করব।

সয়াজিরাও কথা রেখেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা শেষ করে অম্বেডকর দেশে ফিরলে মহারাজ সয়াজিরাও তাঁকে বডোদরা বিধানসভার সদস্যও করে নেন। তার আগে তিনি একটি আইন প্রণয়ন করেন— বিধানসভায় যাঁরা ‘অস্পৃশ্য’দের সঙ্গে একাসনে বসতে ইচ্ছুক হবেন, তাঁরাই শুধু বিধানসভার সদস্যপদের জন্য দাঁড়াতে পারবেন।

সমাজের পিছিয়ে পড়া, নীচে থাকা প্রান্তিক মানুষদের অধিকার রক্ষায় নিরলস প্রচেষ্টার জন্য সয়াজিরাও-এর খ্যাতি অল্প দিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলত, ১৯১৮ সালে মুম্বইতে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের জন্য যে সম্মেলন হয়, তার উদ্বোধনের জন্য সয়াজিরাও আমন্ত্রিত হন। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি জানান, বর্ণভেদ হিন্দুধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, পরবর্তী কালে এটি আরোপিত হয়েছে। আমাদের দেশের মতো জাপানেও জাতিভেদ প্রথা ছিল। কী ভাবে তা উচ্ছিন্ন হয়, তা তিনি জানান।

কোনও কিছু প্রত্যাশা না করে স্বভাবগত মহানুভবতার বশে অস্পৃশ্যতা উচ্ছেদে, অনগ্রসর শ্রেণির অধিকার রক্ষায় মহারাজ সয়াজিরাও যে ঐতিহাসিক ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, দলিত বা অদলিত, কেউ কি তা মনে রেখেছে?

উজ্জ্বলকুমার মণ্ডল ও সীমা মণ্ডল

শেওড়াফুলি, হুগলি

চাষির পরিস্থিতি

স্বাতী ভট্টাচার্য তাঁর ‘মার খাচ্ছেন চাষি, যথারীতি’ (১০-৫) প্রতিবেদনে একটি গভীর সত্য তুলে ধরেছেন— ‘চাষও সরে গিয়েছে রাজনীতির কেন্দ্র থেকে।’ কী কেন্দ্র, কী রাজ্য, কোথাও কৃষক, কৃষি অর্থনীতি কিংবা চাষি নিয়ে রাজনীতিতে তেমন নজরকাড়া কোনও বিতর্ক ওঠে না। এখনকার উন্নয়নের প্রায় সবটাই কঠিন বস্তুর মাপকাঠিতে নির্ধারিত— কত রাস্তা, কত সেতু, কত হাসপাতাল-বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় কিংবা কিসানমান্ডি। প্রায় ১২৫ কোটি ভারতবাসীর মুখে খাদ্য জোগানোর দায়িত্বে থাকা অগণিত কৃষক আজও এই উন্নয়নের ঢক্কানিনাদে দর্শকমাত্র।

কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে এবং উন্নত বীজের সহজলভ্যতায় কৃষক একই জমিতে আরও বেশি ফসল ফলাতে পারছেন— যেমন মুর্শিদাবাদের সরষে চাষি। কিন্তু লাভজনক দাম না পাওয়াটাই তাঁর দস্তুর। দাঁও মারছে মধ্যস্বত্বভোগী ও তেলকল মালিকরা। কৃষক যখন সরষে বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৩০-৩৪ টাকায়, তখন সাধারণ গৃহস্থ তেল কেনেন ১১০-১২০ টাকায়। তা সত্ত্বেও সরকারি ফাইল নড়ে না। কোনও সরকার বলছে, কৃষকের আয় দ্বিগুণ করবে। রাজ্য সরকার দাবি করছে কৃষকের আয় ইতিমধ্যে কয়েক গুণ বেড়েছে।

সাধারণ কৃষকের অসহায় অবস্থার উদাহরণ সামনেই আছে। সুন্দরবনের একফসলি জমিতে এক সময় লঙ্কা ও তরমুজ চাষ করে কৃষক সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাঁরা অনন্যোপায় হয়ে বোরো ধান চাষের খপ্পরে পড়ে জমির দুরবস্থা বাড়িয়েছেন। সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ, কৃষি দফতর,
এবং কৃষি গবেষণার সহায়তায় সুন্দরবনের নোনা জমিতে সীমিত সেচের সুযোগে সূর্যমুখী, মুগ কলাইয়ের চাষ অনেকটাই বেড়েছে। সরকারি মজুরির চাইতে অনেক বেশি মজুরি দিয়ে এবং মহার্ঘ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে সুন্দরবনের কৃষক যে মুগ ও সূর্যমুখী ফলাচ্ছেন, তা সরকারি ভাবে কেনার কোনও ব্যবস্থা নেই। অসহায় কৃষক স্থানীয় বাজারে আড়তদারদের কাছে ২৫০০-৩০০০ টাকা কুইন্টাল
দরে মুগ কলাই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এক বাজারে মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০০০ থেকে ১৪০০০ টাকা কুইন্টালে।

সরকারের কৃষি বিপণন নামে যে দফতর আছে, সেটির ভূমিকা কৃষকের জানার সুযোগ নেই। কিসানমান্ডির সুদৃশ্য পরিকাঠামোর সদর দরজায় তালা দেওয়া। সুন্দরবনের কৃষক হাজার অনিশ্চয়তাকে সঙ্গে নিয়ে ফসল ফলায় ও লোকসানে ঋণগ্রস্ত হন। এ যেন ‘প্রোডিউস অ্যান্ড পেরিশ’-এর আশ্চর্য সমাপতন! রাজ্য পঞ্চায়েত নির্বাচনের ডামাডোলে কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে দু’চারটি কথা বলার অবসর কোনও রাজনৈতিক দলের আছে বলে মনে হয় না। কেননা পশ্চিমবঙ্গে এখন সকল আন্দোলনই ক্ষমতামুখী। তাই কৃষি ও কৃষকের সমস্যার গভীরে যাওয়ার সময় কিংবা আন্তরিকতা অস্তমিত। কৃষক অনন্যোপায়, কেননা তাঁকে তো ফসল ফলাতেই হবে, কারণ সেটাই তিনি জানেন।

সুভাষচন্দ্র আচার্য

কলকাতা-১৫০

 

খেতমজুর

স্বাতী ভট্টাচার্যের ‘খেতমজুরই সব থেকে ধনী’ (২-৬) প্রতিবেদনটি সময়োপযোগী, কিন্তু কয়েকটি বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। প্রথমত ২০০৬ সালের পর, ২০১৬-য় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মাত্র গড়ে ১৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়েছে, আড়াই গুণ নয়। মূল্যবৃদ্ধি অনুসারে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধিকে বেতন বৃদ্ধি বলা যায় না। একশো দিনের কাজে কাজ কতটুকু হয় আর তাই নিয়ে গ্রামগঞ্জে যে কতটা দুর্নীতি হয়, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের কিছু ব্যাপার দেখে সে প্রশ্ন নিশ্চয়ই অনেকের মনেই জেগেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রান্তিক খেতমজুরদের কিছু সুরাহা অবশ্যই হয়েছে, কিন্তু এই ফাঁকিবাজি কাজে কিছু টাকা পেয়ে যাওয়ায় ওই খেতমজুরদের হাতে নাস্তানাবুদ হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। এই মজুরিতে চাষ করিয়ে লাভ হচ্ছে না চাষিদের এবং অনেক চাষিই বিকল্প উপায় পেলেই চাষের জমি বেচে শহরমুখী হচ্ছেন। সেই শহুরে নিম্ন মধ্যবিত্তরা এখনকার দ্বিগুণ দামে কৃষিজাতদ্রব্য ক্রয় করলে হয়তো খেতমজুরি বাড়ানো যাবে। আর কেন্দ্রীয় অনুদান! সরকারি ব্যাঙ্কগুলির আমানত সুরক্ষিত করতে এবং অন্যান্য অনুদান দিতেই নাভিশ্বাস। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের একাংশের কর ফাঁকি ও প্রশাসনে দুর্নীতি যত দিন না বন্ধ হচ্ছে এবং সাধারণ সকলের উপার্জন নিশ্চিত হচ্ছে, এই দুরবস্থার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সমীর সামন্ত

ই-মেল মারফত

 

ভুল হলে

চ্যাপ্টার-২, ইনফর্মেশন বুলেটিন, এনইইটি-২০১৮-এর 2-C-(vi) অনুযায়ী, কোনও প্রশ্নে অনুবাদের বিভ্রান্তি থাকলে প্রশ্নটির ইংরেজি তর্জমা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তার মানে, প্রশ্নে অনুবাদের ভুল হলে পরীক্ষার্থীকে ইংরেজি প্রশ্নের ওপর নির্ভর করতে হবে। একটি অভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মেধা যাচাইয়ের জন্য সকল পরীক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়। কিন্তু এই নিয়মের ফলে আঞ্চলিক ভাষার পরীক্ষার্থীরা সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশ্ন অস্পষ্টতাহীন ও নির্ভুল করার দায়িত্ব প্রশ্নকর্তার। অবিলম্বে উপরোক্ত অবৈধ ও অসাংবিধানিক নিয়মটি তুলে
দেওয়া হোক।

আশিস্ মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-৫১

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়