যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন নিয়োগে রয়েছে অস্বচ্ছতা। এমনই অভিযোগ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ।
শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল আরএন রবি। অনুষ্ঠানশেষে তাঁরা কাছে দাবিপত্র তুলে দেন সঙ্ঘের সদস্যেরা।
অভিযোগ, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টোকনোলজি ফ্যাকাল্টির সচিবপদের ইন্টারভিউ হয় গত ২৭ ও ২৮ মার্চ। সে সময় গোটা রাজ্যে জারি ছিল নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। আবার বিজ্ঞান সচিবের ইন্টারভিউ হয় গত ৫ মার্চ। তার পরের দিন প্লেসমেন্ট ও ট্রেনিং অফিসারপদের নিয়োগ ইন্টারভিউয়ের আয়োজন করা হয়। নিয়োগও হয়ে যায়।
গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই অস্বচ্ছ বলে দাবি। অভিযোগ, যে কমিটি ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিয়োগ করেছে, সেই কমিটিই অবৈধ। কর্মসমিতির তরফে ওই কমিটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এরই পাশাপাশি রেজিস্ট্রার এবং ফিনান্স অফিসারের মেয়াদবৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সঙ্ঘ। অবৈধ ভাবে এই মেয়াদবৃদ্ধি হয়েছে বলে অভিযোগ।
সংগঠনের যাদবপুর শাখার সদস্য ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অস্থায়ী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ বলেন, ‘‘নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা রয়েছে। কারও কারও ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠি যথোপযুক্ত নয়। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত হোক।” বুদ্ধদেবের দাবি, কর্মসমিতিই অবৈধ। তারা যে নিয়োগ করেছে, তা-ও অবৈধ ভাবে। এ বিষয়ে তাঁরা বার বার উপাচার্যকে জানিয়েছিলেন কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।
সঙ্ঘের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতিতে রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি নেই এই মুহূর্তে। শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনও করা হয়েছে নিয়মবহির্ভূত ভাবে। তাই সঙ্ঘের দাবি, আগামী দিনে কর্মসমিতির যে সব বৈঠকের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বন্ধ করা হোক।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক দাবি করেছেন, সম্প্রতি আচার্যের সঙ্গে উপাচার্যদের যে বৈঠকে হয়েছিল, সেখানে কর্মসমিতির বৈঠক করার অনুমতি দিয়েছিলেন আচার্যই। এ দিন অবশ্য কোনও কর্তা এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফেও বৈঠকের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তার।