প্রতীকী চিত্র।
আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে এনসিইআরটি-র একটি বইয়ের বিরুদ্ধে। অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ের ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায়ে বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে উল্লেখ করায় বইটি নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কারা ওই অধ্যায় লিখেছিলেন, সিলেবাস কমিটির সদস্যদের নাম জানতে চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ওই অধ্যায় লেখা এবং মুদ্রিত হয়। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্র বলছে, এনসিইআরটি-র আধিকারিকদের দাবি, সংসদের কোনও বই-ই কোনও একজন লিখে ফেলতে পারেন না। বই রচনা এবং প্রকাশের বহুস্তর রয়েছে।
প্রথমে একটি ‘কারিকুলার এরিয়া গ্রুপ’ (সিএজি) গঠন করা হয়। এই পর্যায়ে নির্বাচন করা হয় কোন বিষয় বিশেষজ্ঞরা পাঠ্যবই লিখবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞান, পাঠ্যবইয়ের মান অক্ষুণ্ণ রেখে এবং পড়ুয়াদের বয়স অনুযায়ী পাঠ্যসূচি তৈরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের বাছাই করা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে, সিএজি প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি ‘টেক্সটবুক ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ (টিডিসি) বা পাঠ্যবই তৈরির কমিটি গঠন করে। সেখানে থাকেন শিক্ষাবিদ, পাঠ্যক্রমের বিশেষজ্ঞ এবং বিষয় বিশেষজ্ঞরা। কিছু ক্ষেত্রে শিল্পজগতের পেশাদারদেরও কিছু বিষয়ভিত্তিক সাহায্যের জন্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এমনকি প্রয়োজনে সরকারি দফতর বা কর্তৃপক্ষের পরামর্শও নেওয়া হয়।
তৃতীয় পর্যায়টি হল খসড়া প্রস্তুত এবং তা খতিয়ে দেখা। টিডিসি-র তৈরি খসড়া বইয়ের অধ্যায়গুলিযাচাই করে দেখে নানা পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞেরা। যাতে তথ্যগত কোনও ভুল না থেকে যায়, বা পাঠ্যবইয়ের মান বজায় থাকে।
চতুর্থ পর্যায়ে খসড়া বইটি সিএজি এবং ন্যাশনাল সিলেবাস অ্যান্ড টিচিং লার্নিং মেটিরিয়াল কমিটি-র তরফে খতিয়ে দেখা হয়। এই পর্যায়ে তথ্যগত ভুল, প্রাসঙ্গিকতা এবং পড়ুয়াদের বয়স অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা, তা তাঁরা ভাল ভাবে পরখ করে নেন।
পঞ্চম বা অন্তিম পর্যায়ে, শেষে খসড়া বই নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আপত্তি বা পরামর্শের উপর নির্ভর করে প্রয়োজনে প্যানেলও গঠন করে এনসিইআরটি। যেখানে পুনর্মূল্যায়ন করা হয় বইয়ের সমস্ত অধ্যায়।
উল্লেখ্য, বইয়ের ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায়ে আদালত অবমাননা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বইটিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।