প্রতীকী ছবি।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নথিপত্র যাচাই বা ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া হবে জুলাইয়ে। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
আগামী ৩, ৭ ও ৮ জুলাই সল্টলেকের করুণাময়ীর ডিরোজিও ভবনে এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চলবে। তালিকায় নাম থাকা প্রার্থীদের নির্দিষ্ট দিনে সকাল ১১টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রের আসল কপি এবং তার সঙ্গে একটি নিজের সই করা ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। তবে এখানে একটি বিশেষ নির্দেশিকা রয়েছে—জেরক্স কপিতে সই এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন করার জন্য শুধুমাত্র নীল কালির বল পেন ব্যবহার করা যাবে।
জরুরি নথিপত্রের তালিকা:
১) গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সই করানো ৩ কপি পুলিশ ভেরিফিকেশন রোল।
২) স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড এবং রেকমেন্ডেশন লেটার বা সুপারিশপত্র।
৩) মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ হিসেবে), মাস্টার ডিগ্রির সমস্ত মার্কশিট ও সার্টিফিকেট এবং বিএড-এর সার্টিফিকেট।
৪) ছবি-সহ পরিচয়পত্র (আধার, ভোটার অথবা প্যান কার্ড) এবং রেকমেন্ডেশন লেটারের সঙ্গে মিল থাকা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
৫) সংরক্ষিত ও প্রতিবন্ধী শংসাপত্র বা বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে বিবাহ সার্টিফিকেট।
৬) পশ্চিমবঙ্গের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ইউজিসি অনুমোদিত সার্টিফিকেট দেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তালিকায় নাম থাকা কোনও প্রার্থী যদি কোনও বিশেষ কারণে নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত হতে না পারেন, তবে তাঁদের ভেরিফিকেশনের জন্য পরবর্তী সুযোগ দেওয়া হবে এবং সেই তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।
শিক্ষক সংগঠন অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, ‘‘ ইতিমধ্যেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ নথি যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু স্কুল সার্ভিস কমিশনের আওতায় থাকা কাউন্সেলিং বন্ধ হয়েছে। সেগুলি অবিলম্বে চালু করা উচিত।’’
মার্চ মাস থেকে একাদশ-দ্বাদশ স্তরে ১০টি বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিং শুরু করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। প্রায় ৩৩০০ পদে দফায় দফায় এই কাউন্সেলিং হওয়ার কথা। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নতুন সরকার গঠন হয়। তার পরে সরকার মনোনীত সদস্যদেরও সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি সরে দাঁড়ান এই মে মাসেই। তারপর থেকে সুপারিশ ও নথি যাচাই বন্ধই ছিল। সম্প্রতি নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হলেও কাউন্সেলিং শুরু হয়নি।