JU Hijab Row

হিজাব বিতর্কের পর কড়া যাদবপুর, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা রাখতে আসছে নয়া বিধি, শাশ্বতীকে ফেরাতে তৎপর ইসি

মঙ্গলবার ইসি সদস্যেরা আলোচনায় বসেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে কোনও সময় শাশ্বতী ছুটি শেষ করে কাজে যোগ দিতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি যোগ দেবেন ইংরেজির বিভাগীয় প্রধান হিসাবেই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৭
Share:

প্রতীকী চিত্র।

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। পরীক্ষা চলাকালীন কোনও পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করতে গিয়ে ধরা পড়লে যাতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, কোনও বিতর্ক তৈরি না হয়, সে জন্য বিশেষ বিধি তৈরি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্‌জ়িকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যরা অধ্যাপক শাশ্বতী হালদারের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন।

Advertisement

ইংরেজির প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল এক ছাত্রীর ধর্মীর ভাববেগে আঘাত করার। গত ডিসেম্বরের সেই ঘটনায় গঠন করা হয়েছিল তথ্যানুসন্ধান কমিটি। উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে যান রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের সদস্যেরা। তাঁরা শাশ্বতীকে ছুটিতে পাঠানোর কথা জানান। শেষ পর্যন্ত গত ৭ জানুয়ারি শাশ্বতী ছুটির আবেদন করেন এবং তা মঞ্জুর করেন উপাচার্য।

এ প্রসঙ্গেই মঙ্গলবার ইসি সদস্যেরা আলোচনায় বসেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে কোনও সময় শাশ্বতী ছুটি শেষ করে কাজে যোগ দিতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি যোগ দেবেন ইংরেজির বিভাগীয় প্রধান হিসাবেই। অর্থাৎ, পরিস্থিতি বিচার করে শাশ্বতীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তই নিলেন যাদবপুরের অধ্যাপকেরা।

Advertisement

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন, “শাশ্বতী হালদার ৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি নিয়েছিলেন স্বেচ্ছায়। যে কোনও সময় তিনি ছুটি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিতে পারেন। ইসি-তে এই বিষয়টি গৃহীত হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ইসির প্রাথমিক আলোচ্য সূচিতে এই বিষয়টির উল্লেখ ছিল না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন শাশ্বতীকে পুনর্বহালের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেয়। তার পরই অধ্যাপিকার প্রতি সংহতি দেখিয়ে বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে যোগ করা হয়। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত হয়েছে পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর’ তৈরি করা হবে। যাতে নকল ধরার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এই ধরনের বিতর্কের ঘটনা না ঘটে।‌

গত ২২ ডিসেম্বর অভিযোগ ওঠে, ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের এক ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাত্রীকে পরীক্ষা চলাকালীন আলাদা করে ডেকে নিয়ে গিয়ে কথা বলেন। সে সময় একাধিক নকলের অভিযোগ উঠেছিল বলেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। কিন্তু তার পরেই তৈরি হয় বিতর্ক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement