— প্রতীকী চিত্র।
ভোটের কাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকেরা কি আদৌ প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে যাবেন?
কলকাতা হাই কোর্টে এক সহযোগী অধ্যাপকের করা মামলার রায়ে শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাও নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও ভাবেই যথাযথ কারণ না দেখিয়ে কলেজ-অধ্যাপকদের এমন কোনও নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা যাবে না, যা তাঁদের পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এর পরই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন, বাকি কলেজশিক্ষকদের কী হবে?
তবে এই প্রথম নয়। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই কলেজশিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে নিয়ম ভেঙে, অভিযোগ এমনই। সে ক্ষেত্রে এ দিনের রায় বিশেষ কার্যকর হতে চলেছে বলে মনে করছেন কলেজশিক্ষকেরা।
এ রাজ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৩ এপ্রিল নির্বাচন, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৯ এপ্রিল। ইতিমধ্যেই বহু কলেজশিক্ষককে নির্বাচনী কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশই প্রিসাইডিং পদে। সে ক্ষেত্রে উঠে এসেছে প্রশিক্ষণের কথা। আদালতে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে পৃথক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানায় কমিশন। অনেকেই ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা নেওয়া শুরু করেছেন। আদালত জানিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, প্রশিক্ষণ হয়ে গেলে তাঁদের ভোটের সময় প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাকিরা কমিশনের নির্দেশ থেকে অব্যাহতি পাবেন।
তার পরই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটা জানিয়েছে, রায়ের কপি খতিয়ে দেখে তারা প্রয়োজনে পৃথক মামলা করবে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট করানোর দায়িত্ব থাকে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারি কর্মী-আধিকারিকদের উপর। প্রিসাইডিং অফিসারকে কাজ করতে হয় ব্লক ডেভলেপমেন্ট আধিকারিকের (বিডিও) অধীনে। কোনও কলেজশিক্ষক প্রিসাইডিং হলে তাঁর পদমর্যাদা আদতে বিডিও-র থেকে বেশি হয়। অর্থাৎ, এই কাজের দায়িত্ব কোনও কলেজশিক্ষককে দেওয়া যায় না। অথচ, কলকাতা-সহ রাজ্যের সব জেলার সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকদের অনেককেই প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ওয়েবকুটা-র তরফে জানানো হয়েছে, এ ক্ষেত্রে ওই রায়কে যুক্ত করে যে কেউ মামলা করতে পারেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিলয়কুমার সাহা বলেন, ‘‘নির্বাচনী কাজ করব না, এ কথা আমরা একেবারেই বলছি না। কিন্তু কলেজশিক্ষকদের পদমর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্বাচনী দায়িত্ব দিতে হবে। এই বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিচ্ছি। আজকের রায়ের কপি হাতে পেয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে আমরাও মামলা করব।’’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক সহকারী অধ্যাপক জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে জেলার বিভিন্ন কলেজ থেকে অধ্যক্ষেরা তাঁদের নাম নির্বাচনী কাজের জন্য পাঠাচ্ছেন। ফলে তাঁদের প্রিসাইডিং-এর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কর্মীসঙ্কটের প্রসঙ্গ উঠে আসে অনেক সময়। কিন্তু কলকাতার কলেজগুলিতে এমন কোনও দায়িত্ব এত দিন আসেনি। চলতি বছর সেটাই ঘটেছে। কলকাতার বহু কলেজের শিক্ষককেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রিসাইডিং-এর।
কলকাতার এক কলেজ শিক্ষক, এ বছর প্রিসাইডিং-এর দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বলেন, “কোর্টের রায় অনুযায়ী প্রশিক্ষণ হয়ে গেলে দায়িত্ব পালন করতেই হবে। সে ক্ষেত্রে আমাকে ভোট করাতে যেতেই হবে। কিন্তু আজকের রায়ে প্রমাণ হয়ে গেল, কাজটি আইনানুগ হল না।”
ওয়েবকুটা জানায়, ২০১০-এ নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, গ্রুপ-এ বা সমতুল্য পদমর্যাদার আধিকারিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ ও অনিবার্য পরিস্থিতি এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের লিখিত নির্দেশ ছাড়া ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন নিজেই সে বিধি ভেঙেছে। এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে সংগঠন। কিন্তু তার পরেও কমিশন কলেজশিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার জন্য চিঠি পাঠিয়েছে।