কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।
বৃহস্পতিবার রাতে তালতলায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের একটি ঘরে শর্ট সার্কিট থেকে আগুল লাগে বলে অভিযোগ। বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের হস্টেলে অব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পড়ুয়ারা।
শুক্রবার উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের কাছে দ্রুত সব হস্টেলের পরিকাঠামো উন্নয়ন করে নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি তুলেছে ছাত্র সংসগঠন ডিএসও। সংগঠনের কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অনীক দে এ দিন দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হস্টেলের পরিকাঠামো উপযু্ক্ত নয়। এর আগেও কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁরা হস্টেলের সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। যদিও ‘বোর্ড অফ রেসিডেন্ট’ অফিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, এক পড়ুয়া ওই ঘরের পাখা চালু করে চলে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ক্ষণ পাখা চালিয়ে রাখার জন্যে গরম হয়েই শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লাগে। যে কারণে ওই ঘরে থাকা এক পড়ুয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ডেকে পাঠানো হয়েছে হস্টেলের সুপারকেও।
তবে পড়ুয়াদের দাবি, বৃহস্পতিবার ওই হস্টেলের ঘরে সন্ধে ৮ টা নাগাদ কেউ ছিলেন না। সেই সময়ে শর্ট সার্কিট থেকে কোনও ভাবে আগুন লেগে যায়। পুড়ে যায় পাখা ও বিছানার কিছু অংশ। কিছু নথিও পুড়ে গিয়েছে বলে দাবি তাঁদের। পরে সুপারকে ফোনে না পেয়ে উপাচার্যকে ফোন করেন তাঁরা। নিরাপত্তারক্ষী ও পড়ুয়াদের চেষ্টাতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনার পরে ফের হস্টেলে অব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পড়ুয়ারা। আগুন লাগার সময়ে ঘরে কোনও পড়ুয়া থাকলে বিপদ হতে পারত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। গত বছরে বিডনস্ট্রিটে ছাত্রীদের ঘরে চাঙড় খসে পড়েছিল। মহাত্মা গান্ধী রোডের ছাত্রীদের হস্টেলে বহিরাগত ঢুকে যাওয়ার ঘটনাও আগে ঘটেছে। সার্বিক ভাবে পড়ুয়াদের অভিযোগ, হস্টেলগুলিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সঠিক ভাবে হচ্ছে না। এর আগেও একাধিক বার কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন তাঁরা। তার পরেও পরিস্থিতির বদল হয়নি বলে অভিযোগ।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, হস্টেলগুলির দায়িত্বে রয়েছেন বোর্ড অফ রেসিডেন্ট। তাদের মোট ১৬টি হস্টেল রয়েছে। তার মধ্যে ১৫টি চালু রয়েছে। বিডনস্ট্রিটের হস্টেলটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। যেমন হেস্টিংস ও বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ এলাকায় তিনটি করে মোট ছ’টি হস্টেল রয়েছে। এছাড়াও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে, সূর্ষসেন স্ট্রিট, বৈঠক খানা এবং আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকায় হস্টেল রয়েছে। এ দিন অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও হস্টেলে আপাতত সমস্যা নেই। অনেক ক্ষণ ধরে পাখা চলতে থাকায় গরম হয়ে সেখান থেকেই আগুন লাগে বলে মনে করছেন তাঁরা। বোর্ড অফ রেসিডেন্টের সম্পাদক আশিস মিস্ত্রী নিজে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিসার বলেন, ‘‘হস্টেলগুলির পরিকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজর রয়েছে। সার্বিক ভাবে কোনও সমস্যা নেই। তার পরেও কোথাও কোনও বিচ্ছিন্ন সমস্যা থাকলে সেটাও ঠিক করে দেওয়া হয়।’’