প্রতীকী ছবি।
জীবনের গতি বাড়ছে। আর সেই দৌড়েই কি পিছিয়ে পড়ছে মন? তাল মেলাতে না পারা সেই মন বেছে নিচ্ছে এমন কোনও পথ, যা জীবনের বিপরীতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সদ্যযুবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের!
এমনই এক ছাত্র ভর্তি হয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে। আচারে-ব্যবহারে ছিল এক অদ্ভুত মায়া— বলছেন কম্পিউটার সায়েন্স-এর শিক্ষক দিগন্ত সাহা। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও ছিল আগ্রহ। ঘুণাক্ষরেও কেউ বুঝতে পারেননি প্রাণবন্ত সে ছাত্রের মনে বাসা বেঁধেছিল অসুখ। যখন বোঝা গেল, তখন প্রিয় ছাত্র শুয়ে লাশকাটা ঘরে। স্বেচ্ছায় ১২তলা বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।
এ মৃত্যু মন থেকে মেনে নিতে পারেননি দিগন্ত। শুরু করেছিলেন পথ খোঁজা, কী ভাবে পড়ুয়াদের মনের হদিশ পাবেন। যাতে আর কোনও পড়ুয়ার এমন পথ বেছে নিতে বাধ্য না হন। আর সেই উদ্যোগেই তৈরি হয়েছে একটি অ্যাপ, যা সাহায্য করছে প়ড়ুয়াদের। সামান্য কিছু কথোপকথনের মধ্য দিয়ে পড়ুয়াদের মন পড়ে ফেলবে অ্যাপ।
কয়েকজন মনোচিকিৎসক এবং কয়েকজন পড়ুয়াকে সঙ্গে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে হাতিয়ার করে দিগন্ত তৈরি করে ফেলেন একটি অ্যাপ। ‘আর্লি ডিকেটশন অফ মেন্টাল হেল্থ’ নামের ওই অ্যাপের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মনের অবস্থা বুঝে শুরু করেন চিকিৎসা। এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ছাত্রের মনের খোঁজ নিয়ে তাঁদের মূল স্রোতে ফেরার কাজ করেছেন তিনি।
দিগন্ত জানান, তাঁকে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে চলেছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ চিকিৎসক পায়েল তালুকদার এবং এমআর বাঙুর হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সোনালী চট্টোপাধ্যায়।
কী ভাবে কাজ করে ওই অ্যাপটি?
অধ্যাপক জানান, মোবাইলে ওই অ্যাপ ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। তারপরে ওই অ্যাপে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেই ভাবের আদান প্রদান করতে পারবেন পড়ুয়ারা। সেখানে কিছু প্রশ্ন দেওয়া থাকবে, সঙ্গে থাকবে কিছু উত্তরও। একটি বেছে নিলেই মনের অবস্থা পড়ে ফেলতে পারবে ওই প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই ওই পড়ুয়ার মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারবে। সেই বার্তা পৌঁছে যাবে বিশেষজ্ঞের কাছে।
দিগন্ত বলেন, “কৃত্রিম মেধা পরিস্থিতি বিচার করে নম্বর দেবে। কারও উত্তরে সমস্যা ২০ শতাংশ ধরা পড়লে তাকে স্বাভাবিক হিসাবেই ধার্য করা হবে। তা ৪০ শতাংশে পৌঁছলে কাউন্সেলিং প্রয়োজন। ৫০ শতাংশের উপরে হলে থেরাপি এবং তারও উপরে হলে ওষুধের প্রয়োজন হবে।” তিনি জানান, এই অ্যাপের মাধ্যমে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন ছাত্রের মনের খোঁজ পেয়েছিলেন তিনি। তাঁদের মিউজিক থেরাপি দেওয়া হয়েছে। আপাতত ভাল আছেন তাঁরা।
দিগন্তের কথায়, ‘‘তরতাজা প্রাণগুলি এ ভাবে ঝরে যাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। বিজ্ঞান বলছে, আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষের মধ্যে আগেই কিছু লক্ষণ ধরা পড়ে। সেগুলি চিহ্নিত করতে পারলেই অনেকাংশে সমাধান সম্ভব।”