chief minister west bengal

প্রাথমিক স্কুলগুলিতে নেই একটিও কম্পিউটার! মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার শিক্ষকদের একাংশের

বিজেপি শিক্ষক সেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, স্কুলগুলিতে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছ’টি ক্লাস রয়েছে। সেখানে অন্তত কম পক্ষে তিন জন শি‌ক্ষকের প্রয়োজন, অথচ রয়েছেন এক জন বা দু’জন। অথচ এমন স্কুলও রয়েছে, যেখানে শিক্ষকের সংখ্যা চার। তাঁরা চান, সব স্কুলে তিন জন করে শিক্ষক থাকুন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৫
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলির ক্ষেত্রে সমস্যা কি শুধু পড়ুয়া-শিক্ষকের সংখ্যায়? বাস্তব বলছে, এর বাইরে রয়েছে হাজার সমস্যা। অভিযোগ, বহু স্কুলে উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে প্রায় কোনও কাজই করা যাচ্ছে না।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। অধিকাংশ স্কুলেই নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং কম্পিউটার নেই বলেই দাবি শিক্ষকদের একাংশের। এ দিকে বিজেপি সরকার গঠনের পরে কেন্দ্রের বহু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজ্য। ফলে কাজের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। অথচ, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পরিকাঠামো একেবারেই নেই বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাব পাঠাতে চলেছে বিজেপি শিক্ষক সেল। সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই জানান, স্কুলগুলিতে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছ’টি ক্লাস রয়েছে। সেখানে অন্তত কম পক্ষে তিন জন শি‌ক্ষকের প্রয়োজন, অথচ রয়েছেন এক জন বা দু’জন। অথচ এমন স্কুলও রয়েছে, যেখানে শিক্ষকেরা সংখ্যা চার। তাঁরা চান, সব স্কুলে তিন জন করে শিক্ষক থাকুন।

Advertisement

দ্বিতীয়ত, তাঁরা চান প্রতিটি স্কুলে অন্তত একটি করে কম্পিউটার থাক। এই মুহূর্তে রাজ্যের বেশির ভাগ স্কুলে কম্পিউটার নেই। অথচ, প্রায় সব কাজই অনলাইন হয়ে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রধানশিক্ষকে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে কাজ করতে হয়।

পিন্টু বলেন, “প্রকল্পের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, কাজ বাড়ছে। এ সব সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করে অভিভাবকদের মধ্যে সরকারপোষিত স্কুলের প্রতি ভরসা ফেরাতে হলে যে সক্রিয়তা প্রয়োজন, তা সম্ভব হচ্ছে না।” তাঁর দাবি, বেসরকারি স্কুলে যেখানে পড়ুয়াদের হাতেকলমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সেখানে সরকারি স্কুলে প্রধানশিক্ষকের ঘরেই কম্পিউটার নেই। এতে নেতিবাচক বার্তা যায়।

শিক্ষাকর্মী সঙ্কটের কথাও উঠে আসছে। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি স্তরের শিক্ষাকর্মী নিয়োগ আশু প্রয়োজন। স্কুলশিক্ষকেরা যদি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, তা হলে পড়াবেন কখন? প্রশ্ন তুলছেন সংগঠনের সদস্যেরা।

বিজেপি শিক্ষক সেলের দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। পিন্টু বলেন, ‘‘প্রাথমিকের হাল না ফিরলে, উচ্চ প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে কিছু করা সম্ভব নয়। ছোটদের স্কুল থেকেই অভিভাবকেরা যদি সরকারি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারান তা হলে উঁচু ক্লাসে কেন পড়ুয়া আসবে? তাই মুখ্যমন্ত্রী এবং স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে এই সব প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।’’

তবে শুধু বিজেপি নয়, এই দাবির সমর্থনে সরব বাম সংগঠনও। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার, ইন্টারনেট পরিষেবা, একজন কর্মী এবং শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষকের প্রয়োজন। পোর্টাল রয়েছে বহু বছর। কিন্তু কম্পিউটারই নেই। এই অবস্থা থেকে মুক্তির পথ না তৈরি করলে শিক্ষাব্যবস্থার গোড়ায় গলদ থেকেই যাচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement