Jadavpur University 2026

যাদবপুরে র‍্যাগিংয়ের ঘটনার তদন্ত ঢিলেঢালা ! ১৫ দিন পরও কর্তৃপক্ষ কেন যোগাযোগ করেননি অভিযুক্ত প্রাক্তনীর সঙ্গে, উঠছে প্রশ্ন

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ডিন অফ আর্টসের ঘরের পাশে একটি ঘরে বসে তাস খেলছিলেন। সে সময় তাঁরই কয়েকজন সহপাঠী ও উঁচু ক্লাসের পড়ুয়া সে ঘরে এসে তাঁদের হেনস্থা করতে শুরু করেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৮
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

র‍্যাগিংয়ের মতো অভিযোগের পরে অভিযোগকারীকে ফোন করা হয়েছিল প্রায় ১০ দিন পরে। তার পরও কেটে গিয়েছে পাঁচ দিন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও নিষ্পত্তি হয়নি কলা বিভাগের ছাত্রের করা অভিযোগের। এমনকি ৪ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযুক্ত এক প্রাক্তনীকে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি অ্যান্টি র‌্যাগিং স্কোয়াড।

Advertisement

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র। প্রায় ১০ দিন পর, ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তদন্ত কমিটির তরফে প্রথম ফোন পান তিনি। কিন্তু তার পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে প্রাক্তনীর বিরুদ্ধে ওই ছাত্র অভিযোগ করেছিলেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ তো দূরের কথা, যোগাযোগই করেননি তদন্তকারী দলের সদস্যরা।

অভিযোগকারী পড়ুয়া জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ডিন অফ আর্টসের ঘরের পাশে একটি ঘরে বসে তাস খেলছিলেন। সে সময় তাঁরই কয়েকজন সহপাঠী ও উঁচু ক্লাসের পড়ুয়া সে ঘরে এসে তাঁদের হেনস্থা করতে শুরু করেন। অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রমণ করে নানা কথা বলা হয়। হাততালি দিয়ে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। বিভাগ থেকে বের করে দেওয়ার এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই ছাত্রের দাবি, তাঁকে গণপিটুনি দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

প্রাথমিক ভাবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, বিষয়টি অ্যান্টি র‌্যাগিং স্কোয়াডে পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত রিপোর্ট অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির কাছে পেশ করা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ দিনও অবশ্য কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে তদন্ত চলছে।

বছর কয়েক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে ছাত্রাবাসের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় যাদবপুরের হস্টেল আটকে পড়ে থাকা প্রাক্তনীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল নিহত ছাত্রের পরিবার। যা নিয়ে গোটা রাজ্য তোলপাড় হয়ে যায়। তার পর সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েই হেনস্থার অভিযোগ পাওয়ার পরেও তদন্তে কেন ঢিলেঢালা মনোভাব দেখা যাচ্ছে প্রশ্ন উঠছে তা নিয়ে।

যদিও এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, তদন্ত চলছে। দু’দিন দোলের ছুটি থাকার পরে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে। তার পরে এই বিষয়ে কথা বলা যাবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement