জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র।
বছর বছর হবে এসএসসি, পিএসসি। দায়িত্ব নিয়েই জানালেন বিজেপি সরকারের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বুধবার বিজেপি মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। গত ৯ মে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর বিকাশ ভবনে বৈঠক করেছিলেন সদ্য নির্বাচিত দুই বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত এবং শঙ্কর ঘোষ-সহ কয়েকজন। অনেকেই মনে করেছিলেন স্বপন-শঙ্করকে দেওয়া হতে পারে স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব।
কিন্তু বুধবার দেখা যায় উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব পেয়েছেন জগন্নাথ। এ দিনই বিকাশ ভবনে নিজের ঘরে বসেন সিউড়ির বিধায়ক। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করে উৎকর্ষের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়াই প্রধান উদ্দেশ্য।
জগন্নাথ বুধবার বলেন, “বাঙালির কাছে পাঁচ দশক পরে নতুন সুযোগ এসেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার হয়েছে, তাই জাতীয় শিক্ষানীতি হুবহু মেনে নেওয়া হবে এ রাজ্যে। আমরা রাষ্ট্রবাদী ভাবধারায় সব সময় দেশের সঙ্গে থাকবে।”
উচ্চ শিক্ষা দফতরের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
বাম ও তৃণমূল সরকারকে বিঁধে জগন্নাথ দাবি করেন, গত কয়েকটি প্রজন্ম শুধু দিল্লির সঙ্গে লড়াই করাকেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে মনে করছে। আগামী দিনে বিজেপি সরকারের লক্ষ্য হবে রাষ্ট্রবাদের উপর আধারিত দেশের সঙ্গে একীভূত স্বচ্ছ শিক্ষার প্রতিষ্ঠা করা। ‘শিক্ষা ও উৎকর্ষের হৃত গৌবর’ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী জগন্নাথ বলেন, “বাম আমলে মধ্যমেধার চাষ হয়েছে, তৃণমূল মেধাহীনতার দিকে শিক্ষাকে নিয়ে গিয়েছে। সেই প্রচেষ্টা রুখে দিতে মানুষ বিজেপি সরকার গঠন করেছে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করব।”
কাজের প্রথম দিনেই জগন্নাথ আশ্বাস দেন, এর পর থেকে প্রতি বছর শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ হবে এবং তা হবে দুর্নীতিমুক্ত পথে। তিনি বলেন, “নিয়ম মেনে এসএসসি, সিএসসি, পিএসসি হবে। কাউকে টাকা দিয়ে চাকরি পেতে হবে না।” একই সঙ্গে উঠে আসে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল সরকারের কর্তৃত্বের প্রসঙ্গ। বিগত সরকারের আমলে বহু বার স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে। জগন্নাথ বলেন, “কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বশাসন বজায় থাকবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু যে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে এমনটা নয়, উচ্চ শিক্ষায় অন্য নানা ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। সেই সব আটকানো হবে। কর্মীদের মধ্যে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি ছিল। তারও অবসান হবে।”