(বাঁ দিকে) তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপিএস অভিষেক রায় (ডান দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।
গণনাকেন্দ্রের সামনে তৃণমূল প্রার্থীকে দেখে স্যালুট ঠুকছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক পুলিশকর্তা। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসক এবং পুলিশকর্তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকের আগে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হল মালদহে। বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশ এবং তৃণমূল যে একাকার সেটা আরও এক বার প্রমাণিত। পাল্টা যুক্তি দিল রাজ্যের শাসকদল। প্রাক্তন পুলিশ কর্তারাও তাঁদের যুক্তি শানিয়েছেন।
মালদহের প্রাক্তন পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ বার চাঁচল বিধানসভা থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এর আগে তাঁকে লোকসভা ভোটে টিকিট দিয়েছিল শাসকদল। প্রসূনের কেন্দ্রে প্রথম দফাতেই ভোট হয়ে গিয়েছে। মালদহ জেলার দুই গণনাকেন্দ্রের স্ট্রং রুমে বন্দি রয়েছে ইভিএম। মালদহ কলেজে পাঁচটি বিধানসভা এলাকার স্ট্রং রুম। মালদহ পলিটেকনিক কলেজে রয়েছে সাতটি বিধানসভা এলাকার ইভিএম৷ গণনাকেন্দ্রের নিয়মাবলি নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠক ছিল প্রার্থী এবং পুলিশ-প্রশাসনের।
মঙ্গলবার দুপুরে একে একে প্রার্থীরা মালদহ কলেজে যেতে শুরু করেন৷ চাঁচলের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস প্রসূনও পৌঁছোন। তিনি মালদহ কলেজে প্রবেশ করতেই পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ তাঁর সঙ্গে হাত মেলান। তার পর মালদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ)-এর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে এগিয়ে যান প্রসূন। কিন্তু হাত মেলানোর আগে তাঁকে স্যালুট ঠোকেন অভিষেক রায়।
গণনাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে শাসকদলের প্রার্থীকে পুলিশ আধিকারিকের সম্মান প্রদর্শন নিয়ে শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির কটাক্ষ, তৃণমূল এবং পুলিশ কী ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছে, এই দৃশ্য তার আরও একটি প্রমাণ। বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় তো এখন পুলিশে কাজ করেন না। তিনি একটি দলের প্রার্থী। তা সত্ত্বেও তাঁকে দেখামাত্র স্যালুট করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার! সৌজন্য বিনিময় ঠিক আছে। কিন্তু যখন আপনি সংবিধানের শপথ নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন সংবিধান মানতে হবে। তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করার যে প্রবণতা, সেটা বন্ধ করতে হবে। সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করুন।” পাল্টা শাসকদলের যুক্তি, আইপিএসদের নিজস্ব সৌজন্য বিনিময়, সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি থাকে। প্রসূন তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন এখন। কিন্তু দীর্ঘ দিন তিনি ওই জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন। প্রাক্তন ঊর্ধ্বতনকে সম্মান জানিয়ে কোনও ভুল করেননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
এই বিতর্কে প্রসূন কিংবা অভিষেক আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি নন। তবে প্রাক্তন পুলিশকর্তাদের একাংশের ব্যাখ্যা, স্যালুট জানানো অনৈতিক নয়, অন্যায়ও নয়। যে কোনও সাধারণ মানুষকেও স্যালুট করতে পারে পুলিশ। কোনও নাবালক-নাবালিকা বা অন্য কেউ যদি সাহসী কাজ করেন তাঁকেও স্যালুট জানিয়ে থাকে পুলিশ। তবে নির্বাচনের আবহে এই ধরনের বিতর্ক এড়াতেই বিদায়ী মন্ত্রী কিংবা জনপ্রতিনিধিদের স্যালুট এড়িয়ে যান পুলিশকর্তারা। তখন সৌজন্য বিনিময় করতে হাত মেলান। অভিষেক কোনও নীতিবিরুদ্ধ কাজ করেননি। তবে বিতর্ক এড়াতে তিনি স্যালুট এড়ালেই ভাল করতেন।