Nandini Chakraborty removed

বিরল ঘটনা! নির্বাচন ঘোষণার রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরাল নির্বাচন কমিশন, কাদের আনল দায়িত্বে?

ভোট ঘোষণা হতেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে পরিবর্তন করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিবের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল নন্দিনী চক্রবর্তীকে। সরানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকেও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০০:৪০
Share:

(বাঁ দিকে) নন্দিনী চক্রবর্তী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। ফাইল চিত্র।

ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বদল আনল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল নন্দিনী চক্রবর্তীকে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট শেষ না-হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজ করতে পারবেন না তাঁরা।

Advertisement

নন্দিনীকে সরিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব পদে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে নিয়ে এসেছে কমিশন। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। সোমবার দুপুর ৩টের মধ্যে তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার বিকেলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে কমিশন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।

ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। এই সময়ে কমিশনের হাতে বিশেষ ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। রাজ্য সরকারের আমলা, আধিকারিক, পুলিশকর্তাদের বদলির নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। অতীতেও বিভিন্ন পুলিশকর্তা এবং সরকারি আধিকারিক বদল করেছে কমিশন। নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার বদলেরও নজির রয়েছে। এমনকি স্বরাষ্ট্রসচিব বদলের উদাহরণও আছে। তবে একেবারে মুখ্যসচিব পর্যায়ে পরিবর্তন সাম্প্রতিক সময়ে কবে হয়েছে, মনে করতে পারছেন না কেউই।

Advertisement

অতীতে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। ওই সময় কমিশনের অভিযোগ ছিল, অত্রি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন কিছু পদক্ষেপ করেছিলেন, যা কমিশনের নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকেও ওই বছর লোকসভা ভোটের সময়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। রাজীব তখন ছিলেন সিআইডি-র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে।

নন্দিনীকে সরিয়ে যাঁকে দায়িত্বে এনেছে কমিশন, সেই দুষ্মন্ত ১৯৯৩ সালের ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। আগে রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। সামলেছেন বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্বও। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে সেচ দফতরও সামলেছেন অতীতে। এ বার নন্দিনীকে সরিয়ে সেই দুষ্মন্তকেই রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব করল কমিশন।

জগদীশের বদলে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে আইএএস আধিকারিক সংঘমিত্রাকে। তিনি ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। এত দিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব ছিলেন। এই দফতরে তিনি রাজ্যের নারী-শিশু কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের প্রশাসনিক দায়িত্বভার সামলাতেন। রাজ্যে ভোট ঘোষণা হতেই জগদীশকে সরিয়ে তাঁকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে নিয়ে এল কমিশন।

২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় হবে ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফা ভোটগ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২ আসনে। গণনা হবে আগামী ৪ মে। রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ভোটের এই নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পশ্চিমবঙ্গে এত কম দফায় ভোটের নজিরও সাম্প্রতিক অতীতে নেই। বিধানসভা-সহ গত কয়েকটি নির্বাচনে রাজ্যে ছয় থেকে সাত দফায় ভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement