ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সুর বেঁধে দিয়েছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তারই সূত্র ধরে সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানান, প্রশাসনের সব স্তরের আধিকারিকেরা দায়বদ্ধ থাকবেন অবাধ, ভয়ডরহীন এবং প্রভাবমুক্ত ভোট পরিচালনার প্রশ্নে। আসন্ন ভোটের প্রতি দফায় ব্যবহার হবে কমবেশি ২৫০০ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতি কোম্পানিতে ৯০ জনের হিসাবে সেই সংখ্যা প্রায় ২.২৫ লক্ষ জওয়ান। সিইও জানান, এ দিন পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির নিষ্পত্তি হয়েছে। হাই কোর্ট সফটওয়্যারের অনুমতি দিলেই প্রকাশ পাবে সেই অতিরিক্ত তালিকা।
এ দিন কমিশন জানিয়েছে, ৫৫টি বিধানসভা আসন চিহ্নিত হয়েছে ‘ক্রিটিকাল’ হিসাবে। তা আর্থিক (এক্সপেন্ডিচার) দিক থেকেই। সব মিলিয়ে, গত কয়েক দিনে প্রায় ১১২ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে গোটা রাজ্য থেকে। প্রত্যেক জেলাশাসকের কাছে যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে, তাতে প্রতি থানা এলাকায় কত অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক, দুষ্কৃতী, গোলমাল পাকাতে পারে এমন লোক রয়েছে, তার বিবরণ থাকতে হবে। গত ভোট-পরবর্তী হিংসায় কারা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে কর্মরত ছিলেন, সেই আধিকারিকদের তালিকাও দিতে হবে। প্রতি বিধানসভায় এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক থাকবেন। ২৮টি পুলিশ জেলা এবং ছ’টি কমিশনারেটে দু’জন করে থাকবেন পুলিশ পর্যবেক্ষক। প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্ট হবে, বাইরেও থাকবে ক্যামেরা। স্পর্শকাতর বুথগুলির ভিতরে সব দিক নজরে রাখার প্রযুক্তিযুক্ত ক্যামেরা থাকবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরও থাকবে বুথের ভিতরের পরিস্থিতির দিকে। সিইও বলেন, ‘‘ভোটারদের ভয় দেখানো, বাধাদান, বুথের ভিতর নির্বাচনী আধিকারিকদের প্রভাবিত করা, ভোটযন্ত্রকে নিজেদের মতো ব্যবহার করার ঘটনা ঘটলে পুনর্নির্বাচন করানো হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে জেলা প্রশাসন—সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। কারও গাফিলতি নজরে এলে আইনের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করে কঠোরতম পদক্ষেপ হবে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘কয়েক দিন আগে একটি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাত জওয়ান স্থানীয় রাজনৈতিক আতিথেয়তা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জন গ্রেফতার হয়েছেন। দু’জনকে সাসপেন্ড এবং দু’জনের পদোন্নতি রদ করা হয়েছে।’’
কমিশন সূত্রের খবর, এ দিন পর্যন্ত যে কয়েকটি জেলায় তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির কাজ শেষ হয়েছে, সেখানকার বিচারকদের অন্য জেলায় পাঠিয়েছে হাই কোর্ট। সব মিলিয়ে ৭০৫ জন বিচারক এখন এই কাজ করছেন। দৈনিক প্রায় ২ লক্ষ করে নিষ্পত্তি হচ্ছে। সিইও বলেন, ‘‘যোগ্যদের সকলে যাতে মূল তালিকার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, তাই ভোট ঘোষণা এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্যে অনেকটা ব্যবধান রাখা হয়েছে। মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত হতে পারবে তাতে।’’
আদর্শ আচরণবিধি চালুর সঙ্গে লিখিত ভাবে কমিশন জানাল, সরকারি ভবনে নির্বাচনী হোর্ডিং-পোস্টার-বিজ্ঞাপন, ছবি ইত্যাদি রাখা যাবে না। নির্বাচনের কাজে কোনও প্রার্থী বা দল সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। সরকারি অর্থ ভোটের বিজ্ঞাপনে নয়। দলগুলিকে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, দেওয়াল লিখন বা দলীয় পতাকা লাগানোর ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকের অনুমতি বাধ্যতামূলক। সভা-সমাবেশের প্রশ্নেও একই বিধি মানতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, বিধিভঙ্গের অভিযোগ জানানো যাবে ১৯৫০ নম্বরে ফোন করে। অভিযোগ জানানো যাবে ‘ইসিআইনেট’ এবং ‘সিভিজিল’ অ্যাপে। সভা-সমাবেশের আগে পুলিশের থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে দলগুলিকে। মন্ত্রীরা সরকারি কাজের সঙ্গে প্রচারকে যুক্ত করতে পারবেন না। আদর্শ আচরণবিধি যথাযথ কার্যকর থাকছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে আধিকারিকদের। কমিশনের ‘সুবিধা’ ব্যবস্থায় দলগুলি আগাম অনুমতি নিতে পারবে। পাঁচটি রাজ্যে প্রায় ৫৭১৩টি ফ্লাইং স্কোয়াড মোতায়েন হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যে পদক্ষেপ করতে হবে তাদের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে