পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার অগ্রবাল। —ফাইল চিত্র।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং বীরভূমের অতিরিক্ত জেলাশাসককে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের সমস্ত কাজ থেকে তাঁদের সরানো হয়েছে। আপাতত তাঁরা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। কেন এই পদক্ষেপ, এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতাতেই পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি এবং মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তার সঙ্গে অতিরিক্ত জেলাশাসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, স্পষ্ট নয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসকের দায়িত্বে ছিলেন ভাস্কর পাল। বীরভূমে ওই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন শৌভিক ভট্টাচার্য। কমিশন জানিয়েছে, ভোটের কাজ আর তাঁরা করতে পারবেন না।
বুধবার রাজ্যের সাত জেলার ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। প্রথম দফার ভোটও মোটের উপর শান্তিপূর্ণই হয়েছিল। তবে কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসেছিল। দ্বিতীয় দফায় তা-ও যাতে না হয়, নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। সেই কারণে বাড়তি পুলিশ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হয়েছে এই দফায়। ফলতায় নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পালের সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। সোমবার রাতে জাহাঙ্গিরের এলাকায় গিয়ে অজয়পাল হুঁশিয়ারি দিয়ে আসেন বলে অভিযোগ। এর পর মঙ্গলবার সকালে এলাকার তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অজয়পালের কনভয় যাওয়ার সময় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বে তৃণমূল বিক্ষোভ দেখায়। ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। বেশ কিছু ক্ষণ তার জন্য আইপিএস-এর কনভয় আটকে ছিল।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফলতার যুগ্ম বিডিও-কে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁকে পাঠানো হয় পুরুলিয়ায়। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে কমিশন সূত্রে। তবে অজয়পালের ঘটনার সঙ্গে যুগ্ম বিডিও-র বদলির সম্পর্ক নেই বলে দাবি। এর পর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসকের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হল।